ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি, মোদির নীতিতে কংগ্রেসের তীব্র প্রশ্ন
Connect with us

হামলা

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি, মোদির নীতিতে কংগ্রেসের তীব্র প্রশ্ন

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান সংঘর্ষে সাময়িক অবসান ঘটেছে শনিবার বিকেলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডলে আগেভাগেই ঘোষণা করেন, ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এরপর ভারতের বিদেশ সচিব এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকেও তা নিশ্চিত করা হয়। ১২ মে পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কিন্তু এই ঘোষণার পরেই বিতর্ক ছড়ায় দুই দিক থেকে। প্রথমত, মোদি সরকারের মার্কিন মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া নিয়ে কংগ্রেস তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। দ্বিতীয়ত, আরও বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া আসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (Mohammad Yunus)-এর মন্তব্য ঘিরে।

মার্কিন ধন্যবাদ বার্তায় ইউনুস, ‘অবাক’ জনমত

যখন সীমান্তে ভারতীয় সেনারা পাকিস্তানি ড্রোন ও গুলির আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যস্ত, তখন ঢাকায় বসে ইউনুসের ‘ধন্যবাদ’ বার্তা ঘি ঢালে বিতর্কে। নিজের সোশাল হ্যান্ডলে ইউনুস লেখেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং বিদেশসচিব রুবিওকে মধ্যস্থতা করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ তার দুই প্রতিবেশী দেশের পাশে রয়েছে।”

এই মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বহুজন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে না দাঁড়িয়ে পাকপন্থী বার্তা দেওয়াই প্রমাণ করে যে ইউনুস আদতে কোন শিবিরে আছেন। বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, একদিকে যেখানে ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের আগ্রাসনের প্রমাণ তুলে ধরছে, সেখানে বাংলাদেশের তরফে এমন মন্তব্য ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা অতিক্রম’ করেছে।

Advertisement
ads

ইন্দিরার স্মৃতি টেনে মোদি সরকারকে তুলোধোনা কংগ্রেসের

এদিকে কংগ্রেসের তরফে একের পর এক পোস্টে স্মরণ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার দৃঢ় ভারতীয় নেতৃত্বের কথা। তারা সরাসরি তুলনা টেনেছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) মধ্যে।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন (Richard Nixon) ইন্দিরাকে যুদ্ধ থামাতে বললে, তাঁর স্পষ্ট জবাব ছিল— “আমাদের যথেষ্ট ইচ্ছাশক্তি ও মেরুদণ্ড আছে। শ্বেতাঙ্গ শক্তি আর আমাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারবে না।” সেই প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের দাবি, “আজকের ভারত সেই ‘আয়রন লেডি’-কে হারিয়েছে। আজ মোদি সরকার শুধু ট্রাম্পের আহ্বানেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা জাতীয় গৌরবের পরিপন্থী।”

কাশ্মীরে ফের হামলা, অথচ ঢাকায় ‘শান্তি’ উৎসব

যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাক সেনা ফের সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। কাশ্মীরের উধমপুরে ড্রোন হামলার চেষ্টা রুখে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। রাজস্থানের বারমের ও জয়সলমের, পাঞ্জাবের ফিরোজপুর এবং কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় ব্ল্যাকআউট করা হয়। তবে সেনার নজরদারিতে বড়সড় ক্ষতি হয়নি।

এই আবহেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা ইউনুস সরকারের ‘অবস্থান’ যেন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে ‘নিরপেক্ষ’ পরিচয় রাখতে চাওয়া ইউনুস আদতে পাকিস্তানের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement