ধর্ম
৬ মাস জেলে থাকার পর জামিন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের, নীরব হলো ইউনূস প্রশাসন
ডিজিটাল ডেস্কঃ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে একাধিক বিতর্কিত মামলায় প্রায় ছয় মাস জেলে কাটানোর পর অবশেষে জামিন পেলেন হিন্দু ধর্মগুরু ও সমাজকর্মী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। বুধবার চট্টগ্রাম হাইকোর্টের বিচারপতি আতাউর রহমান খান ও বিচারপতি আলি রেজা নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। আইনজীবী সুমন কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি দল এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণের পক্ষে সওয়াল করেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিশেষ করে চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সমাবেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তবে শুধু আইনত নয়, রাজনৈতিকভাবেও এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল বিতর্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইসকন সংগঠন থেকে শুরু করে হিন্দু সংগঠনগুলি চিন্ময় কৃষ্ণের গ্রেফতারির প্রতিবাদে সরব হয়। কলকাতা, মুম্বই ও পুণে-সহ একাধিক শহরে তাঁর মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল হয়।
আরও পড়ুনঃ কন্যাশ্রী প্রকল্পে দুর্নীতি: ছাত্রীরা অভিযোগ নিয়ে পথে নামল বাম নেতৃত্ব
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যাঁর প্রকৃত নাম চন্দন কুমার ধর, তিনি চট্টগ্রামের পুণ্ডরিক ধামের প্রধান এবং বাংলাদেশের হিন্দু অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের অন্যতম মুখ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সক্রিয়। জেল হেফাজতে থাকা অবস্থায় চিন্ময় কৃষ্ণ অসুস্থ হয়ে পড়লেও, জেল কর্তৃপক্ষ তাঁর চিকিৎসায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় বারবার জামিনের আবেদন করা হলেও ইউনুস প্রশাসন তা খারিজ করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণের পক্ষে যাতে কেউ দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য আইনজীবীদের হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি একজন আইনজীবীর রহস্যজনক মৃত্যুও ঘটে আদালত চত্বরে। চট্টগ্রাম হাইকোর্টের বুধবারের রায়ে জানানো হয়, কেবল পতাকা অবমাননার অভিযোগেই তাঁকে আটক রাখা হয়েছিল, যা এককভাবে রাষ্ট্রদ্রোহের আওতায় পড়ে না। তদ্ব্যতীত, গত ছয় মাসে তদন্তে কোনও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি, ফলে আইনের দৃষ্টিতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনে মুক্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের এক আইনি-রাজনৈতিক বিতর্ক আপাতত ইতি টানল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, এই জামিন প্রকৃত অর্থে ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক প্রতিরোধের জয়।
