ডিজিটাল ডেস্কঃ লোকসভা শূন্য। বিধানসভা শূন্য। বামেরা এখন খাতায়-কলমে সত্যিই সর্বহারার দল। তা সত্ত্বেও কমরেডদের মনের উত্তাপ যে একফোঁটা কমেনি, তা রবিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে চোখে পড়ল স্পষ্টভাবে।
বামপন্থী শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর ও বস্তি সংগঠনের ‘ব্রিগেড চলো’ কর্মসূচিতে যে আবেগ ও দৃঢ়তা দেখা গেল, তা বহু দিন পর কলকাতার রাজনীতির ময়দানে ফেরাল এক পুরনো দৃশ্যপট। দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে বর্ধমান, মালদহ থেকে মুর্শিদাবাদ—প্রান্তিক জেলা থেকেও ভিড় করেছেন হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক।
আরও পড়ুনঃ ‘যোগ্য-অযোগ্য’ তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় দোলাচলে রাজ্যের স্কুলগুলি
বর্ধমান থেকে ব্রিগেডে এসেছেন সন্দীপ মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে ছোট্ট মেয়ে। তার মাথায় কাস্তে-হাতুড়ির টুপি। সন্দীপবাবুর কথায়, “ওকে বোঝাতে হবে লাল ঝান্ডার মানে। আমরা কেন এই পতাকা নিয়ে লড়ি, সেটা না বোঝালে ভবিষ্যৎ কোথায়?” “এর আগে ইনসাফ ব্রিগেডে মেয়ে বলেছিল ওর মীনাক্ষীদিদিকে সামনে থেকে দেখতে চায়। তখন অবশ্য গরম ছিল না। কিন্তু সেইবার ওর মধ্যে যে উত্তেজইনা দেখেছিলাম, সেটা এবারও রয়েছে। গরম তো কী হয়েছে।”
দক্ষিণ দিনাজপুরের এক প্রবীণ কর্মী বললেন, “আজ পর্যন্ত ব্রিগেড মিস করিনি। গরম, কষ্ট—সব কিছু ভুলিয়ে দেয় আমাদের আদর্শ।” বাম নেতৃত্ব ভিন্ন জেলার কর্মীদের সুবিধার্থে টুপি, পানীয় জল ও মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থাও রয়েছে। ছাতা, গামছা সঙ্গে আনার পরামর্শও দেওয়া হয় আগেই।
তবু প্রশ্ন ছিল—এই সময়ে মাঠ ভরবে তো? সেই সংশয় উড়িয়ে দিয়েছে ব্রিগেডের জনসমাগম। রংচঙে সাজ নয়, বরং শৃঙ্খলাপূর্ণ, লক্ষ্যভিত্তিক অংশগ্রহণ যেন বলল, আদর্শের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। কম জনসমর্থনের অভিযোগ, রাজনৈতিক জমিতে পিছিয়ে পড়া—সব ছাপিয়ে রবিবারের ব্রিগেড দেখাল, আদর্শে এখনও শক্ত ভিত গড়ে রেখেছে বামেরা। এক কর্মীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই যেন ফুটে উঠল সারমর্ম—“সংখ্যায় কম হতে পারি, কিন্তু বিশ্বাসে নই।”