ক্ষমা চাইল না পাকিস্তান, তবু ‘বন্ধুত্বের পাঠ’ পড়াচ্ছে ইউনুস সরকার!
Connect with us

রাজনীতি

ক্ষমা চাইল না পাকিস্তান, তবু ‘বন্ধুত্বের পাঠ’ পড়াচ্ছে ইউনুস সরকার!

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছর পর বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকা ও ইসলামাবাদ। বৈঠকের প্রাক্কালে বাংলাদেশের তরফে দাবি তোলা হয়েছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার জন্য পাকিস্তান যেন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়। পাশাপাশি, স্বাধীনতাপূর্ব অভিন্ন সম্পদের অংশ হিসেবেও ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে বাংলাদেশ। তবে বৈঠক শেষে প্রকাশিত পাকিস্তানের বিবৃতিতে সেই প্রসঙ্গের কোনও উল্লেখই নেই।

এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনুসের উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করে বলেন, “বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতি” অনুসরণ করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।

ফেসবুক পোস্টে আজাদ মজুমদার বলেন, “বিশ্বের ইতিহাসে বহু শত্রু জাতি পরবর্তীতে বন্ধুত্বে রূপ নিয়েছে।” উদাহরণ হিসেবে তিনি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, অতীতে যতই যুদ্ধ হোক, বর্তমান বাস্তবতায় পারস্পরিক স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভারসাম্যই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে হিন্দু নেতার খুন: অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা, বাড়ছে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক

Advertisement
ads

তিনি লেখেন, “এক প্রতিবেশীকে খুশি রাখতে গিয়ে অন্য প্রতিবেশীর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা স্বাধীন দেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে পারে না। এখন থেকে বাংলাদেশ তার স্বার্থেই কূটনীতি নির্ধারণ করবে।”

এর আগে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল— ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি অভিন্ন সম্পদের ভাগ হিসাবে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চাইবে ঢাকা। তবে বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে বিদেশ সচিব মো. জসীম উদ্দিন ও পাকিস্তানের বিদেশ সচিব আমনা বালুচের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরে ইসলামাবাদ যে বিবৃতি দেয়, তাতে এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় নেই।

পাকিস্তানের বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীর থেকে শুরু করে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার কথা জানানো হয়। কিন্তু ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন নৃশংসতা কিংবা সম্পদ ভাগের মতো বিষয়ে এক লাইনও নেই সেই বিবৃতিতে।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— বাংলাদেশের নতুন সরকার কি ধীরে ধীরে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে? যদিও ইউনুস সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, বর্তমান বিদেশনীতি ‘বাংলাদেশপন্থী’ এবং সম্পূর্ণভাবে দেশের স্বার্থকে মাথায় রেখেই গঠিত হচ্ছে প্রতিটি কূটনৈতিক রূপরেখা।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement