দেশের খবর
বিদ্যুৎ সংকটে বাংলাদেশ !বকেয়া পরিশোধ না করাতে বিদ্যুৎ দেওয়া বন্ধ করল আদানি
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পিজিসিবি (PGCB) ও পিডিবি (PDB)। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট—প্রতিটি ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন—থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। এর একটি ইউনিট ৮ এপ্রিল থেকে সরবরাহ বন্ধ রাখার পর শুক্রবার দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ইসরায়েলি কারাগারে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, ‘নরক থেকে ফিরলাম’ বললেন ফিলিস্তিনি যুবক
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের মূল কারণ হল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধ করতে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগেও আদানি বাংলাদেশকে বিল পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। গত বছরও একই কারণে কিছুদিনের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল আদানি গ্রুপ। পরে বাংলাদেশ বকেয়ার কিছু অংশ পরিশোধ করতে শুরু করলে একটি ইউনিট থেকে সরবরাহ চালু করা হয় আদানি গ্রুপের তরফ থেকে।
পিডিবি সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে ইতিমধ্যেই পেট্রোবাংলার কাছে বাড়তি গ্যাস চেয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে গ্যাস সরবরাহ সাপেক্ষে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সময় লাগবে, ততদিনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানায় বাংলাদেশে । বাংলাদেশে শনিবার ছুটির দিন থাকায় চাহিদা কম থাকলেও, রবিবার থেকে সেদেশে কর্মদিবস শুরু হওয়ায় ঘাটতির প্রভাব বাড়তে পারে। শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে বাংলাদেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্প। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে সেই দেশের অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে।
এছারাও, ভারত থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ হওয়ার কারনেও উৎপাদনে ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশের। এবার বিদ্যুৎ ঘাটতি সেই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এদিকে আদানির কয়লার দাম নিয়েও বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলমান। উচ্চমূল্যে কয়লা আমদানি ও মূল্য নির্ধারণে অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে সমাধানের তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
