অপারেশন করে বের হল কলম, প্রাণে বাঁচল নবম শ্রেণির ছাত্র
Connect with us

রাজ্যের খবর

অপারেশন করে বের হল কলম, প্রাণে বাঁচল নবম শ্রেণির ছাত্র

Dipa Chakraborty

Published

on

নিউজ ডেস্ক, ১৫ জুন : দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস ধরে নবম শ্রেণির ছাত্রের মলাশয়ে আটকে ছিল কলম। মারণ যন্ত্রণা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে ভুবনেশ্বরের এইমস- কোথাও গিয়ে মেলেনি সুরাহা। অবশেষে মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা কলম বের করেন ওই ছাত্রের মলাশয় থেকে।

সুদীপ মঠ নামে ওই ছাত্র বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। জানা গিয়েছে, গত ২৯ জানুয়ারি বাড়ির লোকেরা প্রথম লক্ষ্য করেন সুদীপের মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে । জিজ্ঞাসা করলেও বিশেষ কিছু বলতে পারেনি সুদীপ। ব্যাথায় যন্ত্রণায় কাতর ছেলের জীবন সংকটে পড়ে যায়। ছেলের আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে সুদীপের বাবা মুকুন্দ মঠ নিজের জমানো টাকা দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন৷ প্রথমে সুদীপকে নিয়ে যাওয়া হয় সবং গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানও চিকিৎসা হয় নি৷ অগত্যা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু সেখানও সুদীপের সমস্যা ধরা পড়েনি৷ এরপর সুদীপকে পাঠানো হয় ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে। সেখানেও একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষার করেও সুদীপের রোগ ধরা পড়ে নি। ব্যাথায় কাতর ছেলেকে নিয়ে এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে গিয়ে শেষ হয়ে যায় শেষ সম্বল প্রায় দু লক্ষ টাকা৷ ছেলের জীবন বাঁচাতে এখন ভরসা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড৷ সেই কার্ডের দেখিয়েই সুদীপকে ভর্তি করা হয়মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই ডাক্তার আশিস মণ্ডল বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলেন, সুদীপের মলাশয়ে আটকে রয়েছে একটি কলম। অপারেশন করে সেটি বের করতে হবে। অবশেষে সুদীপের এই জটিল অপারেশনে সফলভাবে করে কলমটি বের করা হয়। মলাশয় ও মলদ্বারে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ায় সেই চিকিৎসাই করা হচ্ছে এখন। বর্তমানে সুদীপ অনেকটাই স্থিতিশীল বলে জানালেন ডাক্তাররা। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের কাপাসদা গ্রামের বাসিন্দা সুদীপ। বাবা খেলনা বিক্রেতা মুকুন্দ মঠ ও মা শেফালী মঠ ছেলেকে নুতুন জীবনদান দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডাক্তারদের। প্রশ্ন উঠছে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে ভুবনেশ্বরের এইমস কেন ধরতে পারল না যে সুদীপের মলদ্বারে কলম আটকে রয়েছে। ঠিকমতো চিকিৎসা হলে দীর্ঘ ৫ মাস ধরে এই যন্ত্রণা সহ্য করতে হত না সুদীপকে।