দুর্ঘটনা
২২ বার আগুন! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কাউন্সিলর— এজরা স্ট্রিটে আগুনে বিপর্যয়
ডিজিটাল ডেস্কঃ লালবাজারের ঠিক পাশেই এজরা স্ট্রিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (fire incident) আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। শনিবার ভোর ৫টা নাগাদ একটি ইলেকট্রিক দোকানের (electric shop) দ্বিতীয় তলা থেকে প্রথমে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া দাউদাউ আগুনে পরিণত হয়, আর ছ’ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার দাপট কমেনি।
দমকলের ২০টি ইঞ্জিন (fire engines) আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আগুন ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের একাধিক দোকান ও বাড়িতে। অনুমান করা হচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ছোট-বড় মিলিয়ে ১০০টিরও বেশি দোকান ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক (Councilor Santosh Pathak) সরাসরি দমকলের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ— “২২ বার আগুন লেগেছে! কাকে বলিনি? কেউ সাড়া দেয়নি।” তিনি দাবি করেন, বহুবার দমকল ও পুলিশ কমিশনারকে এলাকার ঝুঁকি সম্পর্কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কাউন্সিলরের কথায়, “প্রশাসনের গাফিলতিতেই আজ এত দোকান ভস্মীভূত।”
তিনি আরও জানান, আগুন নেভানোর কাজে দমকলের বিলম্বের ফলে উল্টো দিকের ৩২ নম্বর বাড়িতেও আগুন ঢুকে গেছে— যা হওয়ার কথা ছিল না। এজরা স্ট্রিটের সরু গলি দমকলের অন্যতম বড় বাধা; একটি ইঞ্জিন ঢুকলেই আরেকটি ঢোকার জায়গা থাকে না। অধিকাংশ বাড়ির টিনের ছাদ (tin roof) ও দোকানের দাহ্য মজুত, উপরন্তু একাধিক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ (cylinder explosion) পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
দমকল কর্মীরা গ্যাস কাটার (gas cutter) দিয়ে দেওয়াল কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন, তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই যে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। আপাতত আগুনের উৎস— শর্ট সার্কিট (short circuit) না কি বাইরে থেকে ছড়ানো— তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। এখন লক্ষ্য একটাই: লেলিহান আগুনকে কোনওভাবে বশে আনা।


