দুর্ঘটনা
দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন কাশ্মীরে থানায় বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল ৯ জনের
ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের সূত্রে তদন্ত চালাতে গিয়ে ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (Ammonium Nitrate) ও নানা ধরনের বিস্ফোরক (Explosives) বাজেয়াপ্ত করেছিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এই বিপজ্জনক সামগ্রী পরীক্ষার উদ্দেশ্যে নওগাম থানায় (Police Station) রাখা ছিল। শুক্রবার রাতে সেই থানাতেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯ জনের। আহত আরও প্রায় ২৫ জন, যাঁদের অধিকাংশই পুলিশ কর্মী এবং ফরেনসিক বিভাগের (Forensic Department) সদস্য।
শ্রীনগরের নওগামে জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) একটি পোস্টারের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই তদন্তেই সামনে আসে সন্ত্রাসবাদের ফরিদাবাদ মডিউল (Faridabad Module), যা দিল্লির বিস্ফোরণেও যুক্ত বলে জানা যায়। কাশ্মীর পুলিশ, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক, যার মধ্যে ছিল বোমা তৈরির উপকরণ (Bomb-making materials) ও অস্ত্রশস্ত্র।
শুক্রবার রাতে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) একটি দল সেই বিস্ফোরক পরীক্ষা করছিল। তখনই আচমকা ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ, তা এখনও পরিষ্কার নয়। অন্তর্ঘাত নাকি কোনও মানবিক ভুল—সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে দিল্লিতে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের প্রকৃতি এই দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
ঘটনার সময় থানায় বহু পুলিশ কর্মী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপস্থিত থাকায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ে। অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের দ্রুত শ্রীনগরের ৯২ বেস হাসপাতাল ও শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (SKIMS) ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন উঁচু পদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা এবং গোটা এলাকা খালি করে সিল করে দেওয়া হয়েছে।


