ভাইরাল খবর
‘খুলে যাচ্ছে মুখোশ আর পরচুলা!’ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ মহুয়া ও সাগরিকার
ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূলের লোকসভা দলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা দিল্লি সফর এবং বিজেপির (BJP) কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে বৈঠককে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সুদীপের এই ‘বিদ্রোহী’ (Rebel) অবস্থান প্রকাশ্যে আসতেই আর সময় নষ্ট না করে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ শাণালেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ মহিলা সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ।
কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) হ্যান্ডেলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নজিরবিহীন ভাষায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। মহুয়ার দাবি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কাছে পেটের সমস্যার অজুহাত দিয়ে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি থাকার কথা বলেছিলেন। অথচ হঠাৎই তাঁকে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে দেখা যায়। তীব্র কটাক্ষ করে মহুয়া লেখেন, ওঁর ‘মুখোশ এবং পরচুলা’ দুই-ই এবার খসে পড়েছে। সুদীপকে ‘বিজেপির বি-টিম’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেল থেকে তৃণমূলের নাম ব্যবহার বন্ধ করারও দাবি জানান মহুয়া।
His mask & his wig both come off – @SudipBAITC told us he was in Apollo Kolkata with a tummy bug when we suddenly saw him on tv in Delhi in Bhupinder Yadav home. Dada pls change your X handle to @SudipBJPBTeam at least. Dont’ use our name.
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) June 13, 2026
Paragraph 4, Tenth Schedule (Anti-Defection Law) of the Constitution of India. An MP or MLA will LOSE THEIR SEAT or be DISQUALIFIED under anti-defection law UNLESS their original political party MERGES with another party; and
They either:
*Join the new/merged party, or
*Refuse to… pic.twitter.com/lpreoNgY6h— Sagarika Ghose (@sagarikaghose) June 14, 2026
অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক (Constitutional) দৃষ্টিকোণ থেকে আক্রমণ করেছেন। ভারতের সংবিধানের ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ (Anti-Defection Law)-এর কঠোর ধারা মনে করিয়ে দিয়ে সুদীপকে লোকসভার সদস্যপদ খারিজের (Disqualification) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সাগরিকা স্পষ্ট জানান, সংবিধানের দশম তফসিলের (Tenth Schedule) ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মূল দল অন্য কোনো দলের সঙ্গে মিশে না গেলে সংসদের ভেতরে কোনো ‘পৃথক গোষ্ঠী’ তৈরি করা যায় না। পুরনো দলের প্রতীক ব্যবহার করে সংসদের ভেতরে বসে দলবিরোধী কাজ করলে সাংসদ পদ ধরে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। হয় তাঁকে অন্য দলে যোগ দিতে হবে, নয়তো পদ খোয়াতে হবে। এই দুই সাংসদের আক্রমণাত্মক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দলবিরোধী পদক্ষেপকে এক ইঞ্চিও রেয়াত করবে না কালীঘাট।
