দুর্ঘটনা
আহমেদাবাদ বিমান বিপর্যয়ের এক বছর! অধরা প্রকৃত কারণ, পিছাল চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট
ডিজিটাল ডেস্কঃ আমদাবাদের (Ahmedabad) ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও প্রকাশিত হয়নি চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট (Final Investigation Report)। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত (International Aviation) নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশের কথা থাকলেও তদন্তকারীদের মতে, এই জটিল ও স্পর্শকাতর ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
২০২৫ সালের ১২ জুন লন্ডনের গ্যাটউইক (Gatwick) বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (Boeing 787 Dreamliner) আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা যাত্রী ও কর্মী মিলিয়ে ২৪১ জন এবং মাটিতে থাকা আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়। মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬০। বর্তমানে দুর্ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। তদন্তে সহযোগিতা করছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক (Civil Aviation Ministry), এয়ার ইন্ডিয়া এবং আমেরিকার জাতীয় পরিবহণ নিরাপত্তা বোর্ড (NTSB)।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে বিমানের ইঞ্জিন (Engine)। সূত্রের দাবি, ইঞ্জিনের ফরেন্সিক (Forensic) বিশ্লেষণ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সেই কারণেই চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট (Interim Report) জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (Cockpit Voice Recorder) থেকে জানা গিয়েছিল, উড্ডয়নের পরপরই বিমানের জ্বালানি সরবরাহ (Fuel Supply) আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ (Fuel Control Switch) ‘রান’ (RUN) থেকে ‘কাট অফ’ (CUT OFF) অবস্থায় চলে যাওয়ায় দুটি ইঞ্জিনেই জ্বালানি পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, বহু নিহতের পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণ (Compensation) গ্রহণ করেননি। তাঁদের বক্তব্য, চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই তাঁরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। বিমান সংস্থার গাফিলতি (Negligence) প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপের (Legal Action) পথও খোলা রাখতে চাইছেন তাঁরা।
এক বছর পরও তাই ভারতের অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অজানাই রয়ে গেছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় নিহতদের পরিবার, বিমান বিশেষজ্ঞ এবং গোটা দেশ।
