ভাইরাল খবর
বিমানের ইঞ্জিনে মুরগি! কেন নিক্ষেপ করা হয়? জানলে চমকে যাবেন
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিমানের উড্ডয়ন এবং অবতরণের সময় পাখির ধাক্কা (Bird Strike) অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। অনেকেই ভাবেন, আকাশে ওড়া একটি ছোট পাখি এত বড় বিমানের কী-ই বা ক্ষতি করতে পারে! কিন্তু বাস্তবে এই ছোট পাখির সঙ্গে সংঘর্ষই হয়ে উঠতে পারে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ।
বিমান যখন প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়ে, তখন একটি সামান্য ধাক্কাও ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। বহুবার দেখা গিয়েছে, পাখির ধাক্কায় বিমানের উইন্ডশিল্ড (Windshield) ভেঙে গিয়েছে, পাইলট আহত হয়েছেন। কখনও পাখি সরাসরি বিমানের ইঞ্জিনে ঢুকে পড়ে ইঞ্জিনের ব্লেড ভেঙে দেয়, এমনকি আগুনও ধরে যায়। এক্ষেত্রে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে বিমান ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই কারণেই বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারগুলি বিমানের শক্তি ও সুরক্ষা পরীক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর। ‘বার্ড স্ট্রাইক টেস্ট’ (Bird Strike Test) নামে একটি বিশেষ পরীক্ষা করা হয়। বিমানের ইঞ্জিন এবং কাঁচ কতটা পাখির ধাক্কা সামলাতে সক্ষম, তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষায় ‘চিকেন গান’ (Chicken Gun) নামের একটি মেশিন ব্যবহার করা হয়।
এই ‘চিকেন গান’ হল একটি বড় এয়ার কামান, যেখানে মৃত মুরগি রাখা হয়। কামান থেকে সেই মুরগিকে ৩০০-৫০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে নিক্ষেপ করা হয় বিমানের উইন্ডশিল্ড, ইঞ্জিন বা ডানার দিকে। এতে বোঝা যায়, আকাশে প্রকৃত পাখির ধাক্কায় বিমানের কতটা ক্ষতি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘একটার পর একটা আগুন, দুর্ঘটনা না পরিকল্পনা?’—বিধানসভায় প্রশ্ন শুভেন্দুর
পরীক্ষার পর দ্রুতগতির ক্যামেরায় প্রতিটি মুহূর্তের ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা হয় বিমানের গঠনগত কোনও ক্ষতি হয়েছে কিনা। বিমানের ইঞ্জিনের ব্লেড ভেঙেছে কি না, ককপিটের কাচে ফাটল ধরেছে কি না বা ডানায় আঘাত লেগেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টেস্টে সাধারণত আসল মুরগি (Chicken) ব্যবহার করা হয়, কারণ ওজন, গঠন এবং টিস্যুর দিক থেকে এটি উড়ন্ত পাখির মতোই। কখনও কখনও জিলেটিন বল বা নকল পাখিও ব্যবহার করা হয়।
বিমান ইঞ্জিনের পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক নিয়ম রয়েছে। ইঞ্জিনে পাখি ঢুকে গেলেও সেটি অন্তত ৭৫ শতাংশ শক্তি (Thrust) দিয়ে কমপক্ষে ২ মিনিট কাজ করতে হবে। কারণ, এতে পাইলট জরুরি অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পান।
এই পরীক্ষায় পাস না করলে কোনও বিমানকে আকাশে ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। আন্তর্জাতিক সুরক্ষা মান মেনে সমস্ত বড় বিমান সংস্থা এই ‘বার্ড স্ট্রাইক টেস্ট’ বাধ্যতামূলকভাবে করে থাকে।
