বাংলাদেশ
বাংলাদেশিদের জন্য জমি বরাদ্দের পথে উত্তরপ্রদেশ, বড় ঘোষণা যোগী সরকারের
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু শরণার্থীদের পাশে এবার আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়াল উত্তরপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) নেতৃত্বাধীন সরকার ঘোষণা করেছে, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ১৯৬০ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে এসে যাঁরা বসতি গড়েছেন, এমন অন্তত ১০ হাজার হিন্দু পরিবারকে দেওয়া হবে জমির বৈধ মালিকানা।
সোমবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে যোগী সরকার। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এক সামাজিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছেন, “এটি শুধু জমি দেওয়া নয়, এটি এক মানবিক শ্রদ্ধার বার্তা – যারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দেশ থেকে উৎখাত হয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করেছেন, তাঁদের জীবনে স্থায়িত্ব ফেরানোর দিশা।”
প্রথম পর্যায়ে পিলভিট, লখিমপুর খেরি, বিজনৌর ও রামপুর জেলার প্রায় ১৪২টি গ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। তাঁদের দেওয়া হবে কৃষিজ এবং আবাসযোগ্য জমি। বর্তমানে যাঁরা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বাস করছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।
আরও পড়ুনঃ এনআরসি নোটিস বাংলার বাসিন্দাকে, কেন্দ্রকে কড়া বার্তা মমতার
সরকারের ‘বিল্ডিং ফর ফিউচার’ নীতি অনুযায়ী, এই জমির মালিকানা পেলে শরণার্থীরা পাবেন ব্যাংক ঋণ, আধার, পাসপোর্ট-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিতে স্বীকৃতি ও সুবিধা। পাশাপাশি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ৭০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ভয় বন্দনা কার্ডও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে।
বিজেপির পজিশন স্পষ্টঃ
এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহল বিজেপির ঘোষিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নীতির বাস্তব রূপ বলেই মনে করছে। কেন্দ্রীয় স্তরে বিজেপি যেভাবে হিন্দু শরণার্থীদের রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বলেই মনে করা হচ্ছে।
তুলনা টানা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০১৯ সালের একটি প্রকল্পের সঙ্গেও, যেখানে রাজ্যে বসবাসকারী ১২ হাজার শরণার্থী পরিবারকে জমির পাট্টা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিজেপি নেতারা তখন অভিযোগ করেছিলেন, সেই প্রকল্পে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করাই উদ্দেশ্য ছিল।
বিরোধীদের প্রশ্ন, সরকারের আত্মবিশ্বাসঃ
যদিও বিরোধীরা বলছে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এবং প্রকৃত শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীদের আলাদা করার কোনও স্বচ্ছ পদ্ধতি নেই। তবে উত্তরপ্রদেশ সরকার এই উদ্যোগকে নিছক রাজনীতি না বলে মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব বলেই ব্যাখ্যা করছে।
ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি হিন্দু পরিবারগুলির প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই হাত বাড়ানো রাজনৈতিক দিক থেকে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই মানবিকতার নিরিখেও এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যগুলিও এই পথে হাঁটবে কি না, এখন সেটাই দেখার।