আত্মহত্যা
একই দিনে দুই রাজ্যে আত্মঘাতী দুই পরিবার, ঋণের চাপে মৃত্যুমিছিল
ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে ঋণের চাপে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা যেন এক মর্মান্তিক প্রবণতায় রূপ নিচ্ছে। মঙ্গলবার, একদিনের ব্যবধানে দুই রাজ্যে আত্মঘাতী হয়েছেন দুটি পরিবার। হরিয়ানা ও কেরল – দুই রাজ্যই সাক্ষী থেকেছে এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনার।
মঙ্গলবার সকালেই চাঞ্চল্য ছড়ায় হরিয়ানার পঞ্চকুলা (Panchkula) এলাকায়, যেখানে একটি বন্ধ গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় একই পরিবারের ছ’জনের মৃতদেহ। গাড়ির জানলার কাচ দিয়ে উঁকি মেরে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান ওই সদস্যদের। পরে পুলিশ এসে গাড়ির দরজা খুলে দেখে, বিষ খাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। একজন তখনও জীবিত ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি জানিয়ে যান, তাঁদের পরিবার ভয়ানক ঋণের বোঝায় জর্জরিত। শেষ মুহূর্তে তিনি বলেন, “আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমিও মারা যাব, কারণ আমিও বিষ খেয়েছি।”
আরও পড়ুনঃ আরজিকরের তিন তরুণ চিকিৎসকের বদলি ঘিরে প্রতিহিংসার অভিযোগ ও বিক্ষোভ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারটি প্রায় ২০ কোটি টাকার ঋণে ডুবে ছিল। ব্যবসায় লাগাতার লোকসানের জেরে এই বিপুল পরিমাণ দেনা হয়। পাওনাদারদের লাগাতার চাপ ও খুনের হুমকি সেই মানসিক সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে। ফলস্বরূপ, চরম সিদ্ধান্ত নেয় গোটা পরিবার। এদিন বিকেলেই এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার খবর আসে কেরল (Kerala) থেকেও। রাজ্যের কোঝিকোড় (Kozhikode) জেলার একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন অনিল কুমার (Anil Kumar, 55), তাঁর স্ত্রী শিজা (Shija, 50) এবং তাঁদের দুই যুবক পুত্র, যাঁদের বয়স কুড়ির কোঠায়।
প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটির বাড়ি থেকে সারাদিন কাউকে বেরোতে না দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে অবশেষে তাঁরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন এবং চারজনের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, অনিল কুমার ও তাঁর পরিবারও আর্থিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত বাড়ি থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।
মনোবিদ ও সমাজতত্ত্ববিদরা এই ধরণের প্রবণতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। আর্থিক দুর্দশা থেকে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলেই আশঙ্কা তাঁদের। কলকাতাতেও কয়েক মাস আগে একইভাবে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করে একটি পরিবার, মৃত্যু হয় তিনজনের। এহেন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কতটা কার্যকর হচ্ছে? এবং সমাজের কোন স্তরে গিয়ে পরিবারগুলি এই চরম পথ বেছে নিচ্ছে? সরকারি ও বেসরকারি স্তরে মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ও ঋণ পরামর্শদানের পরিকাঠামো জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
