সন্ত্রাসে ‘জিরো টলারেন্স’, পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে সিঙ্গাপুরে অভিষেকের কড়া বার্তা
Connect with us

অপারেশন সিঁদুর

সন্ত্রাসে ‘জিরো টলারেন্স’, পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে সিঙ্গাপুরে অভিষেকের কড়া বার্তা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: সিঙ্গাপুর সফরে গিয়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের অবস্থান নিয়ে জোরালো বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ভারতীয়দের এক সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে পাকিস্তানকে নিশানা করে কটাক্ষের সুরে বলেন, “যেভাবে বাবা-মা দুষ্টুমি করলেও নিজের ছেলেমেয়েকে বাঁচাতে তৎপর হয়, পাকিস্তানও সেই ভূমিকাতেই টেররিস্টদের রক্ষা করছে।”

অভিষেক বলেন, “আমরা শান্তিপ্রিয় জাতি। ঝামেলা চাই না। কিন্তু কেউ গুলি চালালে আমরা গোলা ছুঁড়তে দ্বিধা করব না। উধার সে পেয়ার-মোহব্বত বরসায়োগে তো হাম দিল মে বিঠায়েঙ্গে।” তাঁর এই মন্তব্য সিঙ্গাপুরের এসপ্ল্যানেড পার্কে একটি সভায় দেন, যেখানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) স্মৃতিতে গড়ে তোলা আইএনএ (INA) স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনও করেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে এই সৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন নেতাজি নিজে।

অভিষেক জানান, “এই সৌধ ভারতের আত্মত্যাগের প্রতীক। সংস্কারের কাজ চলায় বাইরে থেকেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি।” এই সফরে অভিষেকের সঙ্গে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় ঝা (Sanjay Jha), সলমন খুরশিদ (Salman Khurshid), সিপিআই (এম)-র জন ব্রিটাস (John Brittas) সহ সর্বদলীয় প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুনঃ একই দিনে দুই রাজ্যে আত্মঘাতী দুই পরিবার, ঋণের চাপে মৃত্যুমিছিল

Advertisement
ads

মঙ্গলবার সকালে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শিল্পা আম্বুলা (Shilpa Ambula)-র সঙ্গে বৈঠকের পর সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রী সিম অ্যান (Sim Ann)-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধিরা। পহেলগাম জঙ্গি হামলা ও তার জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) ব্যাখ্যা দেন তাঁরা। অভিষেক পরে এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “সিম অ্যান-এর সঙ্গে বৈঠকে ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরেছি।”

Advertisement
ads

সঞ্জয় ঝা এই বৈঠকে বলেন, “FATF (Financial Action Task Force)-র সদস্য পাকিস্তান, অথচ তারা সেই অর্থ সন্ত্রাসবাদে খরচ করে। পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করা দরকার।” এছাড়াও সিঙ্গাপুরের আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দ্বিতীয় মন্ত্রী এডউইন তুং (Edwin Tong)-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় ও সন্ত্রাস মোকাবিলার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।

সিঙ্গাপুরের সাংসদ বিক্রম নায়ার (Vikram Nair), এস সুপাত ও জেনিল পথুচেয়ারি-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি, থিঙ্কট্যাঙ্ক, এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রতিনিধিরা। পরে বিক্রম নায়ার জানান, “ভারতের অবস্থান আমরা সমর্থন করি। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হতে পারে।”

এছাড়াও অভিষেক যান সিঙ্গাপুরের রামকৃষ্ণ মিশনে (Ramakrishna Mission)। সেখানকার সন্ন্যাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রামকৃষ্ণ, সারদা মা এবং স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। বলেন, “ঠাকুর, মা এবং স্বামীজীর শিক্ষা আমার রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত জীবনে আলোকবর্তিকা।”

সিঙ্গাপুর-ভারত সম্পর্ককে দৃঢ় করতে ও বিশ্বের সামনে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে ভারতের কড়া অবস্থান তুলে ধরতেই এই সফর বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। অপারেশন সিঁদুর–এর পর ভারতীয় কূটনৈতিকদের এই তৎপরতা পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে কার্যকর বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement