ভাইরাল খবর
আম্ফান ত্রাণে বিস্ফোরক CAG রিপোর্ট! ১২৫ কোটি টাকার লেনদেন গরমিল ও একাধিক অনিয়ম ফাঁস
ডিজিটাল ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড় আম্ফান (Amphan) পরবর্তী ত্রাণ (Relief) ও পুনর্গঠন (Reconstruction) কাজের হিসাব নিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলল ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক (CAG) রিপোর্ট। ক্ষতিপূরণ বণ্টন, উপভোক্তা নির্বাচন এবং আর্থিক লেনদেনে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষা সংস্থা।
২০২০ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে আছড়ে পড়া আম্ফানে রাজ্যের ১৬টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এই দুর্যোগের (Disaster) প্রভাবে আক্রান্ত হন এবং ৯৯ জনের মৃত্যু হয়। ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে রাজ্য সরকার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল (NDRF)-এর কাছে ৩৫,০১৮ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দাবি করেছিল। তবে CAG রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন যথাযথ নথি ছাড়াই করা হয়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আম্ফান ক্ষতিপূরণে ৯,২২৬ জন উপভোক্তার (Beneficiary) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিকবার গৃহনির্মাণ অনুদান (House Building Grant) পাঠানো হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ১৮.০৭ কোটি টাকা। CAG-এর মতে, উপভোক্তা যাচাই প্রক্রিয়া এবং সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর (DBT) ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে উপভোক্তার তালিকার অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং প্রকৃত লেনদেনের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৭৫টি ক্ষেত্রে মোট ১২৫.০৭ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে CAG।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের (Bulbul) উপভোক্তা তালিকা ব্যবহার করে ৫,৬২৭ জনকে ২.৮২ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক ত্রুটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গৃহনির্মাণ অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রেও একাধিক অসঙ্গতির কথা জানিয়েছে CAG। একই ধরনের ক্ষতির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হারে টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারও সম্পূর্ণ ক্ষতির সমান ২০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
CAG-এর এই রিপোর্ট আম্ফান পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনের স্বচ্ছতা (Transparency) ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
