বিশ্বের খবর
ট্রাম্পকে হুমকি, তারপরই মৃত্যু! ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি নিহত
ডিজিটাল ডেস্কঃ ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের (Conflict) আবহে বড়সড় ধাক্কা খেল তেহরান। ইজরায়েলি বিমান হামলায় (Airstrike) নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের অন্যতম স্তম্ভ আলি লারিজানি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম (State Media) নিশ্চিত করেছে যে, একই হামলায় লারিজানির পুত্র মোর্তেজা এবং তাঁর নিরাপত্তা দলের প্রধানও প্রাণ হারিয়েছেন।
আলি লারিজানি ছিলেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব (Secretary of Supreme National Security Council)। দেশের সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম নেওয়া লারিজানি গণিত ও দর্শনে উচ্চশিক্ষিত ছিলেন, কিন্তু দেশের প্রয়োজনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দুর্ধর্ষ এক সমরবিদ। সম্প্রতি প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর লারিজানিই ছিলেন প্রশাসনের মূল মুখ।
উল্লেখ্য, লারিজানি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প যখন ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে লক্ষ্য করার কথা বলেন, তখন লারিজানি পালটা বলেছিলেন, “আপনি নিজের কথা ভাবুন, হতে পারে আপনিই নির্মূল হয়ে গেলেন।” আমেরিকা কিছুদিন আগেই যে ১০ জন শীর্ষ কর্মকর্তার মাথার দাম ঘোষণা (Bounty) করেছিল, লারিজানি ছিলেন সেই তালিকার একেবারে উপরের দিকে।
লারিজানির মৃত্যুতে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় শূন্যতা (Vacuum) তৈরি হয়েছে। তবে এই শোকের আবহেই ইরান পালটা হামলা শুরু করেছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইতিমধ্যেই ইজরায়েল, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননে হিজবুল্লাহর (Hezbollah) রকেট হামলা এবং ইরাকে মার্কিন অভিযানে ৪ ইরানপন্থী জঙ্গির মৃত্যু পরিস্থিতিকে চরম উত্তেজনার (Escalation) দিকে ঠেলে দিয়েছে।


