বিশ্বের খবর
যুদ্ধ চলছেই, রক্ত ঝরছেই! সেই সময়েই ট্রাম্পের সঙ্গে ইজরায়েলের গোপন বৈঠক
ডিজিটাল ডেস্কঃ ফেব্রুয়ারি মাসেই একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর সেরে এসেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মাত্র দুই মাসের মাথায় ফের মার্কিন সফরে গেলেন তিনি। তবে এই সফর ঘিরে চাঞ্চল্যের শেষ নেই। আন্তর্জাতিক আদালত ইতিমধ্যেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করেছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাই আন্তর্জাতিক আইন মেনে যে কোনও দেশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে—এই আশঙ্কাতেই শত্রু দেশের আকাশসীমা এড়িয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘুরপথে মার্কিন মুলুকে পৌঁছেছেন তিনি।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, হাঙ্গেরি থেকে সরাসরি না গিয়ে নেতানিয়াহু গ্রিস, ইতালি, ফ্রান্স এবং আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। কারণ, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডের মতো কিছু দেশ তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে বলেই আশঙ্কা করেছিলেন ইজরায়েলি গোয়েন্দারা।
আরও পড়ুনঃ রাফা এখন মৃত্যুপুরী, ইজ়রায়েলি হামলায় মৃত হাজার হাজার
অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পাল্টা শুল্কের কোপে পড়েছে ইজরায়েলও। বন্ধু দেশ হয়েও এবার তাদের উপর চাপানো হয়েছে ১৭ শতাংশ শুল্ক। এই সব ইস্যু নিয়েই সোমবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, বৈঠকে গাজা থেকে পণবন্দি মুক্ত করা, ইজরায়েল-তুরস্ক সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা, এবং শুল্কনীতি পুনর্বিবেচনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধে ইতিমধ্যেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওঠেছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক আদালতের রাডারে রয়েছেন তিনি। ফলে, তাঁর সাম্প্রতিক মার্কিন সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক চাপে কোণঠাসা নেতানিয়াহুর এই সফর আগামী দিনে ইজরায়েল-মার্কিন সম্পর্ক কোন পথে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
