ভাইরাল খবর
প্রয়াত পদ্মশ্রী চিকিৎসক ডা. মণি কুমার ছেত্রী! ১০৫ বছরে ইতি এক যুগের
ডিজিটাল ডেস্কঃ রবিবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ প্লেসের বাসভবনে (Residence) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ (Cardiologist) ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ মণি কুমার ছেত্রী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। পরিবার সূত্রে খবর, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার (Age-related illness) পাশাপাশি দিন পনেরো আগে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
১৯২০ সালে দার্জিলিঙে জন্ম নেওয়া মণি কুমার ছেত্রী ছিলেন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক আলোকবর্তিকা। এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের অধিকর্তা থাকাকালীন তাঁর উদ্যোগেই রাজ্যে প্রথম ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট (ITU) এবং এনডোক্রিনোলজি, নেফ্রোলজি ও কার্ডিওলজির মতো স্বতন্ত্র বিভাগগুলি চালু হয়। ১৯৪৪ সালে চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক হওয়ার পর ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিসিয়ানস থেকে এমআরসিপি (MRCP) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী (Padmashree) সম্মানে ভূষিত করে।
ডাঃ ছেত্রী শুধু একজন চিকিৎসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক (Administrator) এবং কয়েক প্রজন্ম চিকিৎসকের আদর্শ শিক্ষক (Teacher)। বিধানচন্দ্র রায় থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান— ইতিহাসের বহু মহীরুহের সান্নিধ্য পেয়েছেন তিনি। শতবর্ষ পেরিয়েও তাঁর অদম্য পড়ার নেশা ও শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাপন (Disciplined Lifestyle) ছিল বিস্ময়কর। ভোর ৪টেয় ঘুম থেকে ওঠা এবং নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়াকেই তিনি দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি মনে করতেন। তাঁর প্রয়াণে সোমবার রাজ্যের চিকিৎসকরা কালো ব্যাজ (Black Badge) পরে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন। এক শতাব্দী প্রাচীন এক বটবৃক্ষের পতনে বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তৈরি হলো এক অপূরণীয় শূন্যতা।


