মালদা
স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে মেলেনি চিকিৎসা, কাতর সাহায্যের আবেদন দিশেহারা পরিবারের
নিজস্ব সংবাদদাতা , হরিশ্চন্দ্রপুর , ১০ মার্চ: প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গাঙ্গর গ্রামের আফরোজা বিবির।
দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে শয্যাসায়ী। শারীরিক দুর্বলতার কারণে চলাফেরা করতে পারেনা। তার স্বামী সায়েদ আলি একচোখে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এখনো হয়নি প্রতিবন্ধী শংসাপত্র।সায়েদ আলি পেশায় একজন দিনমজুরদীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে আক্রান্ত আফরোজাকে ধার দেনা ও সুদে টাকা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও এখনো পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেনি।গ্রামবাসী ও আত্মীয়দের কাছ থেকে কোন রকমে চেয়েচিন্তে জোগাড় হয়েছিল চিকিৎসার খরচটুকু।কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অপারেশন বাবদ খরচ হবে কয়েকলক্ষ টাকা। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলেও হাসপাতালে কোন চিকিৎসা মেলেনি। এবিষয়ে প্রশাসনের কাছে বারংবার দরবার করা হলেও কোন সুরাহা হয়নি। ফলে হতদরিদ্র ওই পরিবারটি সাহায্য না পেয়ে আত্মহননের হুমকী দিয়েছে। আফরোজার স্বামী সায়েদ আলি বলেন, তার স্ত্রী অনেকদিন থেকেই অসুস্থ। গত একবছরে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু সুস্থ হয়নি। দিনমজুরির কাজ করেন।নিজের ছেলে মেয়েকে খাওয়ানোর মতোও টাকা নেই তার। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আছে কিন্তু সেই কার্ডে এই চিকিৎসা হবে না। রেশনের চালটুকু ছাড়া আর কোনোরকম সরকারি সাহায্য পাইনি। ফলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা ছাড়া কোন উপায় নেই। প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পঞ্চায়েত ও ব্লক দফতরে বারংবার আবেদন করা হলেও কোন লাভ হয়নি। কেউই তাতে কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। যদিও এবিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অঙ্গদ মিত্র জানিয়েছে ন, ওই পরিবারটির স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হয়ে গেছে। হাসপাতালে গেলেও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব ওই পরিবারটিকে সহায়তা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অঙ্গদ মিত্র।
