ভাইরাল খবর
পেপার লিক রুখতে সংসদে কড়া আইন! বাংলায় আলাদা আইন আনার হুংকার দিলীপ ঘোষের
ডিজিটাল ডেস্কঃ সরকারি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস (Paper Leak) এবং কারচুপি (Malpractice) রুখতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে কেন্দ্র সরকার। সোমবার লোকসভায় (Lok Sabha) Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026 পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)। বিলটি পেশ হওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই কঠোর আইন আনার পথে এগিয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেও (West Bengal) এই ধরনের অপরাধ রুখতে পৃথক আইন আনা হতে পারে।
লোকসভায় বিল পেশের সময় বিরোধী সদস্যদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মধ্যেই অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ, শুধু আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে। সংগঠিত ‘পেপার লিক সিন্ডিকেট’-এর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
এছাড়া, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে Fast-Track Court গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শেষ করা এবং চার্জশিট জমার পর দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্যও বিলে উল্লেখ রয়েছে।
সংসদের বাইরে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের নেতারাও বিক্ষোভে সামিল হন। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র-সহ বিরোধী নেতারা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন।
একদিকে কেন্দ্র প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধীরা আইনটির কার্যকারিতা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
