বাংলাদেশ
বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে গাছে বেঁধে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৭
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে (Bangladesh) সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মব হিংসার (Mob Violence) আরও এক ভয়াবহ উদাহরণ সামনে এসেছে। ময়মনসিংহ (Mymensingh) জেলায় এক হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে গণপিটুনি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus)।
ইউনুস জানান, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হল—মহম্মদ লিমন সরকার (১৯), মহম্মদ তারেক হোসেন (১৯), মহম্মদ মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলি (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮) এবং মহম্মদ মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)।
নিহত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস (Dipu Chandra Das), বয়স ২৭। তিনি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একটি নিট কম্পোজিট কারখানার (Garment Factory) শ্রমিক ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ভালুকা (Bhaluka) উপজেলায়। অভিযোগ, ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে তাঁকে কারখানার ভেতরেই গণপিটুনি দেওয়া হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর পর দীপুর দেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ হাইওয়েতে (Dhaka-Mymensingh Highway) নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে তাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর জেরে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরুদ্ধ থাকে এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউনুস প্রশাসনের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের সহিংসতার কোনও স্থান নেই। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না।” পাশাপাশি নাগরিকদের হিংসা ও ঘৃণার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ময়মনসিংহের এই ঘটনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা এবং ক্রমবর্ধমান মব সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


