অপারেশন সিঁদুর
বিদেশে ভারত-বিরোধী স্লোগানে তীব্র জবাব, মুখ খুললেন রবিশংকর প্রসাদ
ডিজিটাল ডেস্ক: পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলা এবং ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর পর আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধি দল। সেই সূত্রেই বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে (Copenhagen) রয়েছেন রবিশংকর প্রসাদ (Ravi Shankar Prasad)-এর নেতৃত্বাধীন একটি ভারতীয় দল। সেখানেই ভারত-বিরোধী স্লোগান তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চেয়েছিল পাকিস্তানপন্থীরা, তবে তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেন রবিশংকর নিজেই।
শুক্রবার কোপেনহেগেনে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আলোচনাসভা চলাকালীন, অনুষ্ঠানের বাইরে আচমকাই ভারত-বিরোধী স্লোগান তোলে একদল পাকিস্তানি। এই অপচেষ্টার পাল্টা জবাব দিতে কোনওরকম দ্বিধা করেননি রবিশংকর প্রসাদ। সভায় উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পাকিস্তান সর্বদা হতাশায় ডুবে থাকে। ওদের কথায় কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
আরও পড়ুনঃ শশী থারুরের চাপেই কলম্বিয়া সরালো পাকিস্তানপন্থী অবস্থান, ভারতের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা
এরপর আরও কড়া ভাষায় পাকিস্তানের মিথ্যাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বলেন, “পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ সাধারণ মানুষ চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তাঁরা চিৎকার করে ভারতে ফিরে আসার আকুতি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, বালোচিস্তানে (Balochistan) মহিলাদের উপর যে ধরনের নির্যাতন চলছে, তা কল্পনাতীত। পাকিস্তান কখনও শান্তি চায়নি, সবসময় যুদ্ধ বাধিয়েছে। আর ভারত শুধু আত্মরক্ষার জন্য জবাব দিয়েছে।”
রবিশংকর প্রসাদের নেতৃত্বাধীন এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিজেপি সাংসদ দগ্গুবতী পুরন্দেশ্বরী (Daggubati Purandeswari), শমিক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী (Priyanka Chaturvedi), কংগ্রেসের গুলাম আলি খাতানা (Ghulam Ali Khatana) ও অমর সিং (Amar Singh), প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এম জে আকবর (M.J. Akbar), এবং প্রাক্তন কূটনীতিক পঙ্কজ শরণ (Pankaj Saran)।
প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য, বিশ্ববাসীর সামনে পাকিস্তানের দ্বিচারিতা এবং ভারতের সন্ত্রাস-বিরোধী অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। পাকিস্তান যেখানে জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ভারতকে আক্রমণকারী হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, সেখানে এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রচারেই পাল্টা বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে নয়াদিল্লি।
এই ঘটনার পর, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল মনে করছে—পাকিস্তানের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এটাই ভারতের সঠিক কৌশল।
