দুর্ঘটনা
ছেলের প্রাণ বাঁচাতে নিজের চামড়া দিলেন মা, এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার পরেও হার মানেনি মাতৃত্ব
ডিজিটাল ডেস্কঃ নয় নয় করে কেটে গিয়েছে দেড় মাস, কিন্তু যন্ত্রণার দাগ এখনও শুকোয়নি পুরোপুরি। তবু আশার আলো দেখাল গুজরাতের ভয়াবহ Ahmedabad Plane Crash থেকে বেঁচে ফেরা কনিষ্ঠতম যোদ্ধা— মাত্র আট মাসের ধায়াংশ। প্রাণের দাম দিতে হয়েছিল ২৪১ জনকে, কিন্তু এই শিশুর জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরকে ঢাল করেছিলেন তার মা মনীষা (Manisha)। আজ সেই লড়াইয়ের জয়জয়কার।
গত ১২ জুন লন্ডনগামী Air India IC 171 বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। BJ Medical College-এর হস্টেলের দেওয়ালে ধাক্কা মেরে ভেঙে পড়ে বিমানটি। শিশুসন্তান ধায়াংশকে নিয়ে হস্টেলে ছিলেন মনীষা, আর তাঁর স্বামী কপিল কাছাড়িয়া (Kapil Kachariya) তখন হাসপাতালের ডিউটিতে।
আরও পড়ুনঃ ছবি সহ পাক জঙ্গিদের মুখোশ খুলে দিল সেনা, পহেলগাম হামলার বদলা সম্পূর্ণ
ভয়াবহ আগুন আর ধোঁয়ার মধ্যে সন্তানকে বাঁচাতে নিজেই ঢাল হয়ে দাঁড়ান মনীষা। আগুনে ঝলসে যায় তাঁর শরীরের এক চতুর্থাংশ। ধায়াংশের ৩৬ শতাংশ শরীর পুড়ে যায়। মুহূর্তেই শিশু ও মা-কে ভর্তি করা হয় KD হাসপাতালে। শিশুটিকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। চলে ইনটেনসিভ কেয়ার, রক্ত দেওয়া, ওষুধপত্র।
সঙ্কট কাটাতে প্রয়োজন হয়েছিল Skin Grafting— ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় বসাতে হতো নতুন চামড়া। মায়ের ভূমিকায় ফের একবার অবিস্মরণীয় হয়ে ওঠেন মনীষা। নিজের শরীর থেকে তুলে দেওয়া হয় ত্বক, যা গেঁথে দেওয়া হয় সন্তানের ক্ষতস্থানে।
KD Hospital-এর Managing Director অদিত দেসাই (Adit Desai) বলেন, “এত ছোট্ট শিশুর জন্য পরিস্থিতি ছিল চরম। কিন্তু মায়ের সাহস এই যুদ্ধে আমাদের জিতিয়েছে।” প্লাস্টিক সার্জন রুতবিজ পারেখ জানান, সংক্রমণের ভয় ছিল প্রবল, কিন্তু যত্নে তা রোধ করা গিয়েছে।
অবশেষে পাঁচ সপ্তাহের টানা চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে মা ও ছেলে। চিকিৎসকদের মতে, “ধায়াংশ বেঁচেছে কারণ ওর মায়ের নাম মনীষা।” এক কথায়, she turned her pain into a shield — and saved a life.
