ডিজিটাল ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জনজীবন। সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার পর ফের খুলে গেল উপত্যকার সমস্ত স্কুল ও কলেজ (School and College Reopen in Kashmir)। মঙ্গলবার থেকেই পাঠদান শুরু হয়েছে কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয় (Kashmir University)-সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
তবে, সীমান্তঘেঁষা তিন জেলা—কুপওয়ারা (Kupwara), বারামুল্লা (Baramulla) এবং বান্দিপোরা (Bandipora)-র গুরেজ এলাকায় (Gurez) আপাতত স্কুল ও কলেজ বন্ধই থাকবে বলে জানিয়েছেন কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয়কুমার বিধুরি (Vijay Kumar Bidhuri)। সোমবারই তিনি জানান, অস্থায়ী সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই তিন জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ মে পাক জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) চালানোর পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারত-পাক সীমান্ত। পাকিস্তান পক্ষ থেকে একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়, যদিও তা প্রতিহত করে ভারত। এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাব ও কাশ্মীরের বেশ কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় স্কুল-কলেজ সহ অসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
আরও পড়ুনঃ ড্রোন হুমকির জেরে ফের সতর্কতা, মঙ্গলবার বন্ধ জম্মু-লেহ-শ্রীনগরের বিমান পরিষেবা
শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধেয় নয়াদিল্লি (Delhi) ও ইসলামাবাদ যৌথভাবে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হতে থাকে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে দেশের ৩২টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবারেই ইন্ডীগো ও এয়ার ইন্ডীয়া তাদের কিছু ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে নিরাপত্তার খাতিরে।
কাশ্মীরেও সেই ধারাবাহিকতায় খুলে দেওয়া হয় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুধুমাত্র সীমান্তবর্তী কিছু স্পর্শকাতর অঞ্চলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এখনও স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সোমবার রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সাফ বার্তা দিয়েছেন, “সন্ত্রাস ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ছাড়া আর কোনও ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হবে না।” পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আবার জবাব দেওয়া হবে। ভারত কোনও ‘নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল’ (Nuclear Blackmail) সহ্য করবে না।”
প্রধানমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির মাঝেও সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরার ইঙ্গিত পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে উপত্যকার সাধারণ মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ছাত্রসমাজও। তবে, সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে এখনো সতর্কতা বজায় রেখেই চলতে হবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।