ইতালিতে বোরখা-হিজাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ, ২.৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব
Connect with us

বিশ্বের খবর

ইতালিতে বোরখা-হিজাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ, ২.৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ইতালিতে (Italy) এবার প্রকাশ্য স্থানে বোরখা (Burqa) ও হিজাব (Hijab) পরা নিষিদ্ধ করতে আইন আনছে জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni) নেতৃত্বাধীন সরকার। ইতিমধ্যেই দেশের শাসক দল ‘ব্রাদার্স অফ ইতালি’ (Brothers of Italy) এই সংক্রান্ত একটি বিল (Bill) সংসদে পেশ করেছে।

এই আইনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, দোকান, অফিস ও অন্যান্য সার্বজনিক স্থানে (Public Place) মুখসহ পুরো শরীর ঢাকা পোশাক পরা যাবে না। আইন লঙ্ঘন করলে ৩০০ থেকে ৩০০০ ইউরো (Euro) পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার থেকে ২.৬ লক্ষ টাকা (INR)

জানা গিয়েছে, গত ৮ অক্টোবর ইতালির সংসদে বিলটি পেশ করা হয়। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে— বোরখা, হিজাব বা কোনও মুখ ঢাকা পোশাক আর প্রকাশ্যে চলবে না।

সরকারের দাবি, এই আইন দেশে ‘ইসলামি ও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতাবাদ’ (Islamic and Cultural Separatism) রুখতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি (Social Harmony) বজায় রাখা যাবে।

Advertisement
ads

মেলোনি সরকারের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিলটি ফ্রান্সের অনুপ্রেরণায় (Inspired by France) তৈরি। ২০১১ সালে ফ্রান্সেই প্রথম বোরখা নিষিদ্ধ করা হয়। ইতালিতেও তেমন আইন আনতেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সাল থেকেই ইতালিতে একটি আইন বলবৎ রয়েছে— যেখানে প্রকাশ্য স্থানে মুখ ঢাকা পোশাক পরা নিষিদ্ধ। তবে সেই আইনে বোরখা বা হিজাবের নাম ছিল না। এবার তা স্পষ্টভাবে আইন হিসেবে পাস করাতে চাইছে সরকার।

এই বিল ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডানপন্থী (Right-Wing) সমর্থকরা যেখানে এই আইনের পক্ষে সওয়াল করছেন, সেখানে মুসলিম সংগঠনগুলি (Muslim Organizations) বলছে, এই পদক্ষেপ নারী স্বাধীনতা (Women’s Freedom) ও ধর্মীয় স্বাধীনতার (Religious Freedom) উপর সরাসরি আঘাত।

Advertisement
ads

এক মুসলিম সংগঠনের মুখপাত্রের বক্তব্য, “এটা নিছকই ইসলাম বিরোধী (Anti-Islamic)। একজন নারী কী পরবে না পরবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার সরকারের নেই।”

তবে এই আপত্তিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সরকারপন্থীরা। তাদের মতে, ইতালিতে মাত্র ৫ লক্ষ মুসলিম (Muslim Population) বসবাস করেন। কিন্তু তারাও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় সরকারের দাবি, এই আইন দেশের ঐতিহ্য ও সামাজিক সংহতি রক্ষা করবে।

Continue Reading
Advertisement