ধর্ম
বাংলাদেশে কোরবানির দিতে গিয়ে গরুর লাথিতে দুই দিনে আহত ৬৪১! এখনো ভর্তি প্রায় ২৫০
ডিজিটাল ডেস্কঃ ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে উৎসব ও খুশির মেলা। কিন্তু এবারের কোরবানি ঈদে সেই আনন্দের ছোঁয়া ম্লান হয়ে পড়েছে পশুর প্রতি অবিচারের কারণে। ঈদ-উল আযহাতে পশু জবাই ও হাটে পশু কেনার সময় অসাবধানতার কারণে শুধু মানুষই নয়, নিরীহ পশুরাও প্রলাপহীন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের ওপর লাগানো হয়েছে ধারালো ছুরি, কাটা-ছেঁড়া আর ঘায়েল হওয়ার যন্ত্রণা, যা ধর্মীয় উৎসবের নামে তাদের প্রতি এক প্রকার নিষ্ঠুরতা।
ওপার বাংলার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (নিটোর) সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে পশুর লাথি, শিংয়ের আঘাত ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬৪১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮১ জনের জরুরি অস্ত্রোপচার হয়েছে। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পশু কোরবানি দিতে গিয়ে, আরেকাংশ আহত হয়েছিলেন পশু কেনার সময়।
আরও পড়ুনঃ ত্রাণ নয়, প্রচার! গ্রেটা-দের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ নেতানিয়াহু সরকারের
নিটোরের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কনসালট্যান্ট ডা. রিপন ঘোষ (Dr. Ripon Ghosh) জানান, ঈদের দিন মাত্র একদিনে ৩২৫ জন আহত রোগী এসেছিলেন, যার মধ্যে ১০২ জনকে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আহতদের অধিকাংশের হাত-পা ভাঙ্গা। ঈদের আগের দিন পশু কেনার সময় পশুর লাথিতে আহত হয়ে ৩১৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৯ জনকে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এইসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, পশুর প্রতি যথাযথ যত্ন না নিলে ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা ও মানবিক মূল্যবোধ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিটোর হাসপাতালের আনসার সদস্য হাবিব (Habib) জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিনেও সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। পশুদের ওপর লাগানো কড়া আঘাতের ফলেই মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। প্রতিবছর ঈদুল আজহার সময় পশু জবাইয়ে মানুষের অসাবধানতার পাশাপাশি পশুর ওপর অযাচিত নির্যাতন ঘটে, যা একদিকে ধর্মীয় প্রথার অংশ হলেও অন্যদিকে নিরীহ প্রাণীর প্রতি বেদনার্ত এক অত্যাচাররূপ। কোরবানি মানে কেবল ঈদের রীতিনীতি নয়, এটি হওয়া উচিত প্রাণের প্রতি সম্মান ও দয়ালু আচরণের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা যেন ভুলেই যাওয়া হচ্ছে।
