বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়ার আত্মহত্যা, অভিযোগের মুখে আইআইআইটি এলাহাবাদ
Connect with us

আত্মহত্যা

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পড়ুয়ার আত্মহত্যা, অভিযোগের মুখে আইআইআইটি এলাহাবাদ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ  মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হল দুই বিটেক পড়ুয়ার। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি(IIIT-A) , এলাহাবাদের (IIIT-A) এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্যাম্পাসজুড়ে। প্রথমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অখিলের। তারপর পরের দিন জন্মদিনের প্রাক্কালে হস্টেল ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন প্রথম বর্ষের শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ছাত্র রাহুল চৈতন্য। একসঙ্গে দুই তরুণের মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন উঠছে— কেবল কি নিছক কাকতালীয়, নাকি কোনও যোগসূত্র রয়েছে এর পিছনে?

২১তম জন্মদিনের এক দিন আগেই মৃত্যু হয় রাহুল চৈতন্যের। তেলঙ্গানার নিজামাবাদের সত্যনারায়ণপুরম গ্রামের বাসিন্দা রাহুল ছিলেন শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বরাবর সাধারণ স্কুলে পড়ে ৭০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। প্রথম বর্ষে পড়ার সময় থেকেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলে দাবি করছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, ইনস্টিটিউট কোনও সহায়তা করেনি ছেলেকে। সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ প্রশিক্ষক, আলাদা পড়াশোনার সহযোগিতা কিছুই পাননি রাহুল। ফলে ধীরে ধীরে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। রাহুলের মা স্বর্ণ লতা ও বাবা মদলা কৃষ্ণ জানিয়েছেন, মৃত্যুর ঠিক আগে রাহুল তাঁর মাকে ভিডিয়ো কল করেন। তাঁদের ধারণা, ভবন থেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগে মাকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন তাদের ছেলে।

আরও পড়ুনঃ ওষুধের পর রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি! মাথায় হাত মধ্যবিত্তদের

অখিল ছিলেন রাহুলের সিনিয়র এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাহুলের সাংকেতিক ভাষার ব্যাখ্যা করে পড়াশোনায় সাহায্য করতেন অখিল। ২ মার্চ আইআইআইটি স্পোর্টস মিটে কাবাডি খেলতে গিয়ে চোট পান তিনি। ফিরে এসে শারীরিক অস্বস্তি জানালেও ইনস্টিটিউট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা যথেষ্ট ছিল না বলে দাবি পরিবারের। পিঠ ও বুকের ব্যথা থেকে অবস্থা ক্রমে খারাপ হতে থাকে। শেষে ২৯ মার্চ রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অখিল। তাঁর বাবা-মা, রাজু নায়েক ও দেবী অভিযোগ করেছেন, অখিল অসুস্থ হওয়ার পর ইনস্টিটিউট যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি।

Advertisement
ads

ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের দাবি, অখিলের মৃত্যুর খবর পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রাহুল। সেই হতাশা থেকেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত। তবে রাহুলের বাবা সাফ জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে অখিলের মৃত্যুর কথা জানতই না। ইনস্টিটিউটও ওই খবর ৩০ মার্চ সকাল পর্যন্ত গোপন রেখেছিল বলে দাবি তাঁর। ফলে দুটি মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি যোগ থাকার কথা মানতে নারাজ রাহুলের পরিবার।

এই মৃত্যুর পরেও এখনও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। প্রয়াগরাজের সহকারী পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে, তবে কোনও পরিবার এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

আইআইআইটি-এলাহাবাদে প্রায় ২০০০ পড়ুয়ার মধ্যে ৭২ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। রাহুল ছিলেন একমাত্র শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী ছাত্র, তাঁকেই দ্বিতীয় তলার ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। যেখানে প্রতিবন্ধীদের সাধারণত নিচতলার ঘর দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এই দুই মৃত্যুর ঘটনা দেশের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রশ্ন আবারও সামনে এনে দিয়েছে। শুধু তদন্ত নয়, এবার প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার।

Advertisement
ads