রাজনীতি
সীমান্তে উত্তেজনা, পানিট্যাঙ্কিতে যাচ্ছেন রাজ্যপাল, উত্তরকন্যায় মমতার কড়া নজর
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাশের দেশ নেপালে (Nepal) চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংস বিক্ষোভ (Violent Protests), এবং ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে ভারতেও। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ ও পানিট্যাঙ্কি (Panitanki) সীমান্তে।
এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উত্তরকন্যায় (Uttarkanya) রাত জেগে পরিস্থিতির উপর ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর তরফে এক্স (X)-এ পোস্ট করে জানানো হয়—
“পড়শি দেশ নেপালের অবস্থা উদ্বেগজনক। তাই রাজ্যের স্বার্থে, রাত জেগে উত্তরকন্যায় বসে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
এদিকে, দার্জিলিংয়ের পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে একটি স্থানীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসু (Governor C.V. Ananda Bose)। সঙ্গে থাকবেন তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী আনন্দ বসু, এডিসি (ADC) রাহুল পান্ডে, ওএসডি (OSD) শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, পিএসও রাকেশ পান্ডে এবং পরিষেবাকর্মীরা। এমন সময় সীমান্তে তাঁর উপস্থিতি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সীমান্ত শহরগুলিতে ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security Measures) গ্রহণ করা হয়েছে। পানিট্যাঙ্কি, কাঠাম, নকশালবাড়ি প্রভৃতি এলাকায় দোকানপাট বন্ধ। সীমান্তে এসএসবি (SSB) ও ওপারে নেপালি সেনা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে পরিচয়পত্র ছাড়া সীমান্ত পারাপার কার্যত বন্ধ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন,
“প্রতিবেশী ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকব। কেউ যেন অশান্তিতে জড়িয়ে না পড়েন। নেপাল নিয়ে যা বলার কেন্দ্র বলবে। আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালকে ভালোবাসি।”
তাঁর আরও সংযোজন, কেন্দ্র যদি রাজ্য সরকারকে কোনও নির্দেশ দেয়, তাহলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) থেকে সোনার কারিগরদের নিয়ে নেপাল যাওয়ার যে বাস পরিষেবা চলত, তা বন্ধ রাখা হয়েছে। দাবি, বহু কারিগর এই মুহূর্তে নেপালে আটকে রয়েছেন। পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত দিয়েই তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
ভারতের তরফ থেকে নেপালে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা (Advisory) জারি করে বলা হয়েছে—
“সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং নেপালি কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চলুন।”
নেপালের এই অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে—
“আমরা দুঃখিত যে বিক্ষোভে প্রাণহানি ঘটেছে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও সংলাপের মাধ্যমে সব ইস্যুর সমাধান হওয়া উচিত।”


