মেয়ের সাফল্যে অপমানিত পিতা! বাবার গুলিতে খুন জাতীয় টেনিস তারকা রাধিকা
Connect with us

খুন

মেয়ের সাফল্যে অপমানিত পিতা! বাবার গুলিতে খুন জাতীয় টেনিস তারকা রাধিকা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ হরিয়ানার জাতীয় স্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব-কে গুলি করে খুন করলেন তাঁর বাবা। যে বাড়িতে তিনি স্বপ্ন বুনছিলেন, সেখানেই Thursday morning ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। রান্নাঘরে ছিলেন রাধিকা, তখনই পিছন থেকে তাঁর বাবা দীপক যাদব পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান— তিনটি গুলি রাধিকাকে বিদ্ধ করে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গুরুগ্রামের সুশান্ত লোক এলাকায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের দায় স্বীকার করেছেন দীপক যাদব নিজেই। “গ্রামের লোকজন বারবার বলত আমি মেয়ের টাকায় চলি। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে খুন করেছি,” – জানিয়ে দেন দীপক। তদন্তে উঠে এসেছে, কেবল স্বনির্ভরতা নয়, রাধিকার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা ও সাম্প্রতিক একটি মিউজিক ভিডিওতেও রোম্যান্টিক দৃশ্যে তাঁর উপস্থিতি দীপক মেনে নিতে পারেননি।

আরও পড়ুনঃ জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে তৃণমূল নেতাকে কুপিয়ে খুন, অভিযুক্ত আরেক TMC নেতা

পুলিশ সূত্রে খবর, ‘কারওয়ান’ নামক সেই মিউজিক ভিডিওতে রাধিকার উপস্থিতি দীপককে প্রবলভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। রাধিকার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল, টেনিস কোচিং অ্যাকাডেমি এবং তাঁর অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নিয়েও আপত্তি ছিল তাঁর বাবার। বারবার বলার পরও মেয়ে অ্যাকাডেমি বন্ধ করেননি, রিল মুছেননি— এমনই অভিযোগ করেছেন অভিযুক্ত।

Advertisement
ads

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সেই সকালে রান্না করছিলেন রাধিকা। তাঁর মা মঞ্জু যাদব ছিলেন অসুস্থ অবস্থায় বিছানায়। গুলির শব্দ শুনে সবাই ছুটে এসে রাধিকাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। কাকা কুলদীপ যাদব ও ভাইপো পীযূষ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার পর .৩২ বোর লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভারটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘর থেকে গুলির খোল, রক্তের দাগ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। Indian Penal Code-এর murder clause-এ মামলা রুজু করে দীপককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২৫ বছর বয়সি রাধিকা এক সময় জাতীয় স্তরে দেশের হয়ে খেলেছেন। একাধিক medals তাঁর ঝুলিতে ছিল। কিন্তু এক ম্যাচ চলাকালীন গুরুতর কাঁধের চোট পাওয়ার পর তিনি পেশাদার টেনিস থেকে সরে এসে নিজের Tennis Academy চালু করেন। স্থানীয় বাচ্চাদের প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি।

এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে sports fraternity ও তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। সকলে বলছেন— মেয়ের স্বাধীনতা, নিজের পরিচয় গড়ে তোলার লড়াই আজ খুন হয়ে গেল এক বাবার হাতে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement