দুর্ঘটনা
ষষ্ঠীতে বিদায়, আর ফেরা হয়নি! কাশ্মীরে শহিদ বাংলার দুই প্যারা কমান্ডো
ডিজিটাল ডেস্কঃ ষষ্ঠীর সকালে ছুটি কাটিয়ে নিজের কর্তব্যপথে পা বাড়িয়েছিলেন ভারতীয় সেনার (Indian Army) প্যারা কমান্ডো (Para Commando) পলাশ ঘোষ। টোটোয় চেপে ভাইকে এগিয়ে দিয়েছিলেন দাদা মৃগাঙ্ক ঘোষ। মনে করেননি, সেটাই জীবনের শেষ দেখা।
অন্যদিকে, বীরভূমের (Birbhum) রাজনগরের সুজয় ঘোষ শেষবার ফোনে বলেছিলেন, “অভিযানে যাচ্ছি।” তারপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
বুধবার কাশ্মীরের দক্ষিণ অনন্তনাগ (Anantnag) জেলার গাদুল এলাকায় সন্ত্রাসবাদী নিধন অভিযানে (Anti-Terror Operation) অংশ নেন পলাশ ও সুজয়। আচমকা তুষারঝড়ে (Snowstorm) পড়ে যান তাঁরা। তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন এই দুই বাঙালি যোদ্ধা।
দু’দিন পর, শুক্রবার সেনাবাহিনীর তরফে (Army Sources) খবর আসে— তুষারঝড়ে হারিয়ে শহিদ হয়েছেন ল্যান্স হাবিলদার (Lance Havildar) পলাশ ঘোষ (৩৮) ও ল্যান্স নায়েক (Lance Naik) সুজয় ঘোষ (২৮)।
সেনাবাহিনীর তল্লাশি অভিযানে বরফের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় পলাশকে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে আইসিইউতে (ICU) রাখা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার সকালে আসে তাঁর মৃত্যুর খবর। পরিবারে ভেঙে পড়েছে শোকের পাহাড়।
পলাশের বাড়ি নদিয়ার (Nadia) চাকদহে। বাড়িতে রয়েছেন বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা। স্তব্ধ পরিবার। দাদা মৃগাঙ্ক বলেন, “ষষ্ঠীর দিন টোটোতে ভাইকে এগিয়ে দিই। তখন বুঝিনি, ও যে আর ফিরবে না।”
সুজয়ের বাড়ি বীরভূমের রাজনগরে। বাবা একজন কৃষক। সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন ২০১৮ সালে। সহকর্মীদের মতে, দায়িত্ববান, সাহসী এবং নীরব যোদ্ধা ছিলেন সুজয়।
বাংলার দুই সন্তানের এই আত্মবলিদানে রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শোকের আবহ। তাঁদের জন্য গর্বও প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারালেও, দেশের জন্য তাঁদের এই আত্মোৎসর্গ জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


