দেশের খবর
“শ্রীকৃষ্ণ মুসলিম ছিলেন!” মওলানা জারজিস আনসারির মন্তব্যে তোলপাড়, গ্রেফতারির দাবি
উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত মৌলবি মওলানা জারজিস আনসারির একটি চাঞ্চল্যকর দাবিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, হিন্দু ধর্মের অন্যতম পরম পূজনীয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আসলে একজন মুসলিম ছিলেন এবং তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে পাঁচ বার নমাজ (Prayers) পড়তেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) মওলানার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল (Viral Video) হতেই হিন্দু সংগঠনগুলো ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। তারা অবিলম্বে মওলানা জারজিসকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত ২৩ জুন ঝাড়খণ্ডে আয়োজিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এই মন্তব্য করেন জারজিস আনসারি। মূলত সেই সভার ভিডিওই এখন নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভগবত গীতার শ্লোকের মনগড়া ব্যাখ্যা
নিজের এই অদ্ভুত দাবি প্রতিষ্ঠা করতে মওলানা জারজিস শ্রীমদ্ভগবত গীতার (Shrimad Bhagavad Gita) ষষ্ঠ অধ্যায়ের ১০ নম্বর শ্লোকটি (“যোগী যুঞ্জীত সততম্ আত্মানং রহস্য স্থিতঃ…”) আওড়ান। তাঁর দাবি, এই শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ ভক্তদের সম্পূর্ণ শরীর দিয়ে উপাসনা করতে বলেছেন, যার প্রকৃত অর্থ হলো ইসলামি কায়দায় নমাজ পড়া। তিনি সরাসরি বলেন, “জেনে রাখুন শ্রীকৃষ্ণ মুসলিম ছিলেন, নিজেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন।”
তবে সনাতন ধর্মের বিশেষজ্ঞরা মওলানার এই ব্যাখ্যাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, গীতার এই শ্লোকটির প্রকৃত অর্থের (Actual Meaning) সঙ্গে মওলানার দাবির বিন্দুমাত্র মিল নেই। শ্লোকটির আসল অর্থ হলো, “যোগ সাধনা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি নির্জনে একা থেকে, মন ও আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে, বাসনা ও আসক্তিহীন হয়ে নিরন্তর ধ্যানে মগ্ন থাকবেন।” এখানে নমাজ বা ইসলামের কোনও সম্পর্কই নেই।
“রাম ও কৃষ্ণও ইসলামের প্রচার করেছিলেন”
বিতর্ক আরও বাড়িয়ে মওলানা জারজিস বলেন, হিন্দুরা যদি নিজেদের ধর্মগ্রন্থগুলো খুঁটিয়ে পড়েন, তবে তাঁরা সকলেই ইসলামকে ভালোবাসতে বাধ্য হবেন। তাঁর মতে, “ইসলাম কেবল মুসলমানদের ধর্ম নয়, এটি পৃথিবীর সর্বজনীন ধর্ম (Universal Religion)। শ্রী রামচন্দ্র এবং শ্রীকৃষ্ণও এই ধর্মেরই বাণী প্রচার করেছিলেন।”
মওলানার পূর্ব অপরাধ ও নানাবিধ বিতর্ক
এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে (Headlines) এসেছেন মওলানা জারজিস আনসারি। ২০২২ সালে তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তিনি দাবি করেন, প্রসব বেদনা (Labour Pain) থাকলেও কোনও মুসলিম নারী তাঁর স্বামীর শারীরিক চাহিদা পূরণে অসম্মতি জানাতে পারেন না।
বিতর্কিত মন্তব্যের পাশাপাশি মওলানার অতীত অপরাধমূলক রেকর্ডও (Criminal Record) বেশ দীর্ঘ। বারাণসীর একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত (Fast-track Court) ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবতীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল করার অপরাধে জারজিস আনসারিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে (Rigorous Imprisonment) দণ্ডিত করেছিল। ২০১৩ সালের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি ওই যুবতীকে ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। এবার তাঁর এই নতুন উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।
