ভাইরাল খবর
মোদী-শাহের সভা থেকেও দূরে, দলে ক্রমশ একঘরে হচ্ছেন দিলীপ ঘোষ?
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্য রাজনীতিতে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) রাজ্য সফরে আমন্ত্রণ না পাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনায় অমিত শাহের (Amit Shah) কলকাতার সভা। দলীয় প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে রবিবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে ডাকা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—তাঁকে কি ক্রমশ দলের মূল পরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
প্রসঙ্গত, মোদীর সভায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে দিলীপ বলেছিলেন, তিনি কোনও পদাধিকারী নন, তাই প্রোটোকল অনুযায়ী তাঁকে ডাকা হয়নি। একই বক্তব্য ফের শোনা গেল নেতাজি ইনডোর সভা নিয়েও। সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, “সব পদাধিকারীদেরই ডাকা হয়েছে। আমি যেহেতু কোনও পদে নেই, তাই হয়তো ডাকা হয়নি।” যদিও এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে, কারণ দিলীপ ঘোষ এখনও রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির সদস্য এবং দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি—সেই সূত্রেই অন্তত আমন্ত্রণ প্রাপ্য বলে মনে করছেন অনেকেই।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে ভারতের আশা নন্দিনী, হায়দরাবাদে আজ গ্র্যান্ড ফিনালে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দিলীপ ঘোষকে ‘ব্রাত্য’ করার এই প্রবণতা শুরু হয়েছে তাঁর দিঘা সফরের পর থেকে। সেদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যখন জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করছিলেন, তখন দিলীপ ঘোষ সেখানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে দলের অন্দরের সমালোচনার জবাবে তিনি প্রকাশ্যে পাল্টা মন্তব্যও করেন। ধারণা করা হচ্ছে, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর প্রতি অনাস্থা প্রদর্শন করছে।
তবে এই পরিস্থিতি নিয়ে দিলীপ ঘোষ নিজে বিশেষ বিচলিত নন। তাঁর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, ‘‘আমি কোনও অস্তিত্ব সংকটে ভুগি না। যারা নিজেদের জায়গা নিয়ে চিন্তিত, তাদেরই ভয় থাকে। আমি কারও জায়গা নেওয়ার জন্য রাজনীতি করি না।’’ তিনি এটাও জানান, দল বা রাজনীতিতে ‘বয়কট’ শব্দে তিনি বিশ্বাস করেন না।
এই পরপর অবহেলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা—দলের ভিতরেই কি ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছেন দিলীপ ঘোষ? আপাতত উত্তরটা সময়ের অপেক্ষায়।
