ভোটের খবর
ভয় বা পক্ষপাতিত্ব নয়, আইন মেনে ভোট করান! বৈঠকে অফিসারদের নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election) ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই কলকাতায় দু’দিনের সফর শেষে একগুচ্ছ কড়া ও স্বচ্ছ নির্দেশিকা জারি করলেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভয় বা পক্ষপাতিত্বের (Fear or Favor) কোনও জায়গা নেই নির্বাচনে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য হল ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা (Voter List) নিশ্চিত করা। তিনি গ্যারান্টি দিয়ে বলেন, “কোনও বৈধ ভোটার (Valid Voter) যেন তালিকা থেকে বাদ না যায় এবং কোনও অবৈধ ভোটার (Illegal Voter) যেন ভোট দিতে না পারে।” সম্প্রতি এসআইআর (SIR) ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা কর্মসূচি নিয়ে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে কমিশনের এই আশ্বাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও আধুনিক করতে কমিশন চালু করেছে ECINET অ্যাপ। আগেকার একাধিক অ্যাপের বদলে এখন এই একটি প্ল্যাটফর্মেই প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য থেকে শুরু করে ভোটার কার্ড (EPIC Card) সংক্রান্ত সব সাহায্য পাওয়া যাবে। বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং (Webcasting) করা হবে এবং প্রতিটি বুথে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র (Help Desk) থাকবে।
বিশেষভাবে সক্ষম (Person with Disability) এবং ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, বুথের ভেতরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাইরে মোবাইল রাখার কাউন্টার করা হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রার্থীরা চাইলে গণনার (Counting) সাত দিনের মধ্যে ইভিএম (EVM) পরীক্ষা করার আবেদন করতে পারবেন।
বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে জ্ঞানেশ কুমার তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করে বলেন, বাংলা দেশকে পথ দেখিয়েছে। পরিশেষে, সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রতি তাঁর কড়া নির্দেশ- সংবিধান (Constitution) মেনে এবং আইনশৃঙ্খলা (Law and Order) বজায় রেখে নির্ভয়ে কাজ করতে হবে।


