দুর্ঘটনা
ন্যায়বিচারের দাবিতে পথে চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজ, আরজি কর কাণ্ডে বর্ষপূর্তিতে নবান্ন অভিযান
ডিজিটাল ডেস্ক: আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক-ছাত্রী ধর্ষণ ও খুনের এক বছর পূর্তিতে ফের উত্তাল হতে চলেছে বাংলা। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। মামলায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রাই (Sanjay Rai) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেলেও, ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’-এর রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ সিবিআই (CBI)—এমনই অভিযোগ পরিবারের।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৮ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলছে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি। মূল কর্মসূচি ৯ আগস্ট—‘নবান্ন অভিযান’। চিকিৎসক সংগঠন, নাগরিক সমাজ, ছাত্র সংগঠন মিলিতভাবে পথে নামবে। জেপিডি আহ্বায়ক পুণ্যব্রত গুণ (Punyabrata Goon) বলেন, “সরকার বারবার ব্যর্থ, তাই ফের রাস্তায় নামছি।” ৮ আগস্ট কলেজ স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মশাল মিছিল, রাতভর অবস্থান, ৯ আগস্ট সকালে ‘রাখি’ কর্মসূচি, বিকেলে হাজরা ক্রসিংয়ে জমায়েত এবং সন্ধ্যায় আরজি কর চত্বরে সমাবেশ—সবই কর্মসূচির অংশ। ১৪ আগস্ট মোমবাতি মিছিল ও মধ্যরাতে ‘Reclaim The Night’ আয়োজিত হবে।
আরও পড়ুনঃ রাহুলের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে দিল্লিতে নৈশভোজে অভিষেক, বিজেপি-ইসি বিরুদ্ধে সরব INDIA জোট
এদিকে, নবান্ন অভিযানের বিরোধিতায় দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে—শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা দেওয়া যাবে না। তবে আইন মেনে সরকারি সম্পত্তি রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আন্দোলনের পাশে থাকার ঘোষণা করেছেন। অভিযোগ করেছেন, “নবান্ন রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে।”
এসময় দিল্লি গিয়ে সিবিআই ডিরেক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর কথায়, “১৪০ কোটি মানুষের ভরসার সংস্থা কতটা বোগাস, তা বুঝেছি। ডিরেক্টর নিজেই মামলা ছাড়ার কথা বলছেন।”
এই পরিস্থিতিতে ৯ আগস্টের কর্মসূচি ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি ও নাগরিক সমাজে উত্তেজনা তুঙ্গে।
