রাজ্যের খবর
চাকরি আন্দোলন ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেককে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের
ডিজিটাল ডেস্কঃ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্দোলন ঘিরে এবার সরাসরি আক্রমণে নামলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মঙ্গলবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। দিলীপের অভিযোগ, ‘‘দু’জনেই শিক্ষকদের হুমকি দিচ্ছেন, বদনাম করছেন। আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে চাইছেন।’’ যদিও মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক হিংসা থেকে বিরত থাকার বার্তা দিলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিষেধ করেননি এবং বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকারা গত বৃহস্পতিবার থেকে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন। সেই আন্দোলন থেকেই বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, বিকাশ ভবনের গেট ভাঙচুর, বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিক্ষোভ– নানা ঘটনা সামনে এসেছে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘যে ৮ হাজার অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছ থেকে ৮০০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এখনও জেলে আছেন, তাঁর হাতও এতে রয়েছে। অথচ সরকার বিষয়টা ধামাচাপা দিতে চাইছে।’’
আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় দিনে ডাবগ্রামে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, “কসবার ডিআই অফিস ঘেরাওয়ের দিন পুলিশ যেভাবে আচরণ করেছে, তা লজ্জাজনক। জুতো, লাঠি, লাথি— সবই চলেছে। যাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের এই রকম আচরণের মুখে পড়তে হচ্ছে? তাঁরা যখন মরিয়া হয়ে প্রতিবাদ করছেন, তখন সরকার কেন প্ররোচনা দিচ্ছে?”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে দিলীপ বলেন, ‘‘যিনি নিজেকে আন্দোলনের ফসল বলেন, তাঁর মুখে আজ অন্যদের আন্দোলনকে ‘বহিরাগতদের কাজ’ বলা মানায় না। উনি নিজে একাধিকবার হিংসাত্মক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিধানসভা কাণ্ডে ১৪ লক্ষ টাকা জরিমানাও দিয়েছিলেন। এখন আবার অন্যের আন্দোলন খাটো করছেন? এই দ্বিচারিতা কেন?’’
বহিরাগত তত্ত্ব নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “যেখানেই প্রতিবাদ হচ্ছে, ওখানে সরকার ‘বহিরাগত’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে। মুর্শিদাবাদ থেকে বিকাশ ভবন— সব জায়গাতেই একই বক্তব্য। তাহলে যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁরা কে? মুখ্যমন্ত্রী চাইলে তো আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকেই প্রকৃত বহিরাগতদের খুঁজে বের করে নিতে পারেন। সেটাই বরং করুন।”
চাকরি ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে রাস্তায় নামা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্দোলন নিয়ে রাজ্য জুড়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্দোলনের স্বার্থে প্রশাসনের অবস্থান এবং বিরোধীদের কৌশল— দুই দিকই এখন জনদৃষ্টিতে।
