শনিবার বালুরঘাটে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান সুকান্ত। তাঁর অভিযোগ, “বাংলায় ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশ হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় নাম তোলা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা, এমনকি সরকারি চাকরিও। এসবই হচ্ছে ভোটব্যাঙ্ককে পাকা করতে।”
আরও পড়ুনঃ করোনার নতুন ঢেউ? ২৪ ঘণ্টায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি, চাপে স্বাস্থ্য দফতর
তিনি আরও বলেন, “২০২৬ সালেই তৃণমূলের শেষ লড়াই। এবার সময় এসেছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-র সাম্প্রতিক বঙ্গ সফরের প্রসঙ্গ টেনে সুকান্ত বলেন, “ওনারাও অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। এবার গোটা রাজ্যজুড়ে এই ইস্যুকে আরও জোরদার করবে বিজেপি।”
ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) সম্প্রতি বিজেপির ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। তার পাল্টা জবাবে সুকান্ত বলেন, “কিছু মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ‘অপারেশন বাংলা’র প্রয়োজন আছে। যেভাবে দুর্নীতি, তোলাবাজি আর রাজনৈতিক হিংসায় বাংলা চলছে, তার জবাব দিতে এই অপারেশন দরকার।”
২০১১ সালের পরিবর্তনের আশায় মানুষ যে তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল, তা আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেই দাবি সুকান্ত মজুমদারের। তিনি বলেন, “এই দশকে বাংলায় শুধু দেখেছে তোলাবাজি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি, কাটমানি আর রাজনৈতিক হিংসার ছবি। এখন মানুষ একটা সত্যিকারের বিকল্প খুঁজছে।”
শেষে তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বিশ্বব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ভারতে দারিদ্র্য হ্রাসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “করোনার পর সারা বিশ্ব যখন অর্থনীতিতে ধুঁকছে, তখন ভারত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির (Narendra Modi) নেতৃত্বের সাফল্য। আমরা কৃতজ্ঞ।”
এদিনের মন্তব্য স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বকেই মূল অস্ত্র করে মাঠে নামতে চলেছে বিজেপি। শাসকদল তৃণমূলকে এই বিষয়ে কী জবাব দিতে হয়, সেদিকে তাকিয়ে এখন গোটা রাজ্য।