বিশ্বের খবর
গাজা-গর্জনে বাংলাদেশ: প্রতিবাদে হিংসা, দোষীদের খোঁজে তৎপর প্রশাসন
ডিজিটাল ডেস্কঃ গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলের সামরিক হামলার প্রতিবাদে সোমবার বাংলাদেশের একাধিক শহরে বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। রাজধানী ঢাকাসহ সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা শহরে বহুজাতিক কোম্পানি বাটা, কেএফসি ও ডোমিনোজ পিজ্জার আউটলেটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষোভকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিংসার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আরও দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ ‘ইহুদি মালিকানা’ অভিযোগে হরতাল বাংলাদেশে, ব্র্যান্ডে হামলা ও জুতো চুরি করে পালাল মৌলবাদীরা
এদিকে, দেশের রাজনৈতিক পরিসরেও এ নিয়ে সরব হয়েছে একাধিক দল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি, ইসলামপন্থী দল ও বামপন্থী সংগঠনগুলো ইজরায়েলের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও, সোমবারের সহিংসতার তীব্র নিন্দা করেছে বিএনপি। দলের দাবি, সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ঘটনার পর বাটা (BATA) বাংলাদেশ নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি চেক প্রজাতন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি পারিবারিক কোম্পানি। তাদের ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক যোগাযোগ নেই বলেও জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে এমন হিংসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এই সহিংসতা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন বাংলাদেশে চার দিনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের। সরকারের লক্ষ্য, এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনগণকে শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
