ডিজিটাল ডেস্কঃ গাজায় ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ জুড়ে ডাকা হরতাল রীতিমতো রূপ নেয় হিংসাত্মক তাণ্ডবে। মৌলবাদী সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের ডাকে হরতাল চলাকালীন দেশের বিভিন্ন শহরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিপণি ও রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় মৌলবাদীরা। সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, গাজীপুরসহ একাধিক শহরে চলে চুরি, লুটপাট, ভাঙচুর।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইহুদি মালিকানার অভিযোগ তুলে কেএফসি, বাটা, পিৎজা হাট, কোকাকোলা, সেভেন আপের মতো ব্র্যান্ডকে নিশানা করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বাটার দোকান থেকে জুতো চুরি করে পালাচ্ছে কিছু ব্যক্তি, কেএফসির সামনে কোল্ডড্রিঙ্কসের বোতল ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সবটাই ঘটে দিনের আলোয়, পুলিশের কার্যত কোনও উপস্থিতি না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, “পুলিশের কাছে হামলার ফুটেজ রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” যদিও প্রশ্ন উঠেছে, তাণ্ডব চলাকালীন প্রশাসন কার্যত নিশ্চুপ কেন ছিল।
আরও পড়ুনঃ “আমি আসছি” — দেশে ফেরা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা শেখ হাসিনার
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহম্মদ ইউনুস রাতের দিকে নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, “সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি বলেন, “চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন শুরুর দিনে এমন ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা দেশের কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার শত্রু।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে, যার মধ্যে কক্সবাজারে ৫টি, চট্টগ্রামে ৩টি, সিলেটে ৫টি, গাজীপুরে ৪টি, কুমিল্লা ও বগুড়ায় একটি করে। পুলিশের আইজিপি জানান, “সরকার কোনও ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদে বাধা দেয় না। তবে প্রতিবাদের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।” এখন দেখার, ঘটনার পরবর্তী তদন্ত কতটা দ্রুত ও কার্যকর হয়।