দেশ
সীমান্তে বাংলাদেশ-চিন-পরিকল্পনা: ‘ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ নতুন অধ্যায় শুরু?
ডিজিটাল ডেস্ক: শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকার বিদায়ের পর থেকেই বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক মানচিত্রে রীতিমতো কূটনৈতিক ঝড় বইছে। এককালে ভারতকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখা ঢাকা এখন হাত মেলাচ্ছে বেজিং (China) ও ইসলামাবাদের (Pakistan) সঙ্গে। এবং তাদের এই নতুন মিত্রতায় ভারতের বিরুদ্ধেই যে ষড়যন্ত্রের ছক কষা হচ্ছে, তার প্রমাণ মিলছে একের পর এক ঘটনায়।
সাম্প্রতিক এক গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন শাসক গোষ্ঠী, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস (Mohammad Yunus), তারা ভারতের সীমান্তঘেঁষা লালমনিরহাট (Lalmonirhat) জেলায় একটি বায়ুসেনা ঘাঁটি (Airbase) গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেই ঘাঁটি তৈরিতে সাহায্য করছে চিনা সামরিক প্রযুক্তি এবং পরামর্শদাতা দল।
মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় সীমান্ত, তাও চিনের ছায়ায় সামরিক পরিকাঠামো?
রংপুর বিভাগের এই অঞ্চল ভারতের সঙ্গে অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত ভাগ করে। সেনা ও গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানকার ভূগোল এমন যে, কোনও রকম ঘাঁটি বা নজরদারি কেন্দ্র তৈরি হলে তা সরাসরি ভারতের নিরাপত্তা বলয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যদি সেই ঘাঁটি ব্যবহার করে চিন বা পাকিস্তান, তবে তা কার্যত ভারতের কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা আধিকারিক বলেন, “বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে কী করবে, তা তাদের অধিকার। কিন্তু যদি সেই ঘাঁটি ভারতের বিরুদ্ধে কোনও তৃতীয় দেশের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তবে তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।”
চিকেন নেক (Chicken’s Neck): ভারতীয় ভূখণ্ডের ‘জীবনরেখা’ নিশানায়!
‘শিলিগুড়ি করিডর’ (Siliguri Corridor) নামেই বেশি পরিচিত এই অঞ্চলটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের (Seven Sisters) সঙ্গে যুক্ত রাখে। এই করিডরের প্রস্থ সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২০ কিলোমিটার। এবং এটি ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের সীমান্তে। এমন দুর্লভ কৌশলগত অবস্থানে থাকা এই করিডর বহুদিন ধরেই জঙ্গি ও শত্রুপক্ষের নজরে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করতে চাইলে প্রথম নিশানা এই করিডরই। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই এখানকার জেহাদিদের মদত দিয়ে আসছে। এবার চিন এবং নতুন বাংলাদেশের যোগসাজশ সেই ষড়যন্ত্রকে আরও জোরালো করতে পারে।
অস্ত্র-মাদক-সন্ত্রাস—ঘোলা জলে মাছ ধরার খেলায় তিন দেশ
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল দিয়েই ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে অস্ত্র, মাদক এবং জাল নোট পাচারের চক্র। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে এই পথ। এই করিডরকে বিচ্ছিন্ন করে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতকে কার্যত অবরুদ্ধ করার ছক বহুদিনের। আর সেই ছকেই এবার ঢাকার (Dhaka) নতুন সরকার যেন নতুন রং মেশাচ্ছে, বলছে প্রতিরক্ষা মহল।
ভারতীয় সেনার পালটা প্রস্তুতি—বার্তা স্পষ্ট
তবে ভারতও কোনও ঝুঁকি নিচ্ছে না। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের ওদলাবাড়ি (Odlabari) তিস্তা ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে (Teesta Field Firing Range) তিন দিনের যুদ্ধমহড়া চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। ইস্টার্ন কমান্ড (Eastern Command) তরফে জানানো হয়েছে, দেশের সীমান্তে কোনও ধরনের আক্রমণ বা পরিস্থিতি তৈরি হলে মোকাবিলার জন্য সেনা শতভাগ প্রস্তুত।
সেনার এক মুখপাত্র জানান, “আমাদের প্রতিটি ইউনিট এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। শত্রুপক্ষের যে কোনও অঘটন ঘটানোর পরিকল্পনা আমরা ঠেকাতে প্রস্তুত।”
