দেশের খবর
“বাংলাদেশেরও রয়েছে দুই চিকেন নেক”— মানচিত্র দেখিয়ে পাল্টা বার্তা অসম মুখ্যমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্ক: প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ফের কড়া বার্তা দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma)। ভারতের ‘চিকেন নেক’ নিয়ে মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে এবার তিনি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করলেন বাংলাদেশের মানচিত্র— স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডেও রয়েছে দুটি স্পর্শকাতর করিডর, যেগুলির নিরাপত্তা ভারতের ‘চিকেন নেক’-এর চেয়েও বেশি দুর্বল।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বাংলাদেশ থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগস্থল তথা ‘চিকেন নেক’ দখলের পরিকল্পনার ইঙ্গিত এসেছে। বিশেষ করে চিন সফরে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মোহাম্মদ ইউনুস (Mohammad Yunus) এই নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে সূত্রের খবর। সেই প্রতিক্রিয়ায় দিন কয়েক আগেই হিমন্ত সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, “ভারতের একটি চিকেন নেক রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের রয়েছে দুটি। কেউ যদি আমাদের দিকে তাকায়, তাহলে আমরা তাদের দুই করিডরকেই টার্গেট করব, আর ঘার মটকে দিব।”
আরও পড়ুনঃ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর গুজরাটে মোদী, বিজেপি শিবিরে উন্নয়ন ঘিরে জোর কৌশল
এই মন্তব্যের পরে আর থেমে থাকেননি তিনি। এবার এক্স (X)-এ একটি মানচিত্র শেয়ার করে লিখেছেন, “বাংলাদেশের দুটি চিকেন নেক রয়েছে— এবং সেগুলি অনেক বেশি দুর্বল। প্রথমটি দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরের ‘নর্থ বাংলাদেশ করিডর’। এই অংশ বিচ্ছিন্ন হলে রংপুর একেবারে আলাদা হয়ে যাবে বাংলাদেশের মূলভাগ থেকে। দ্বিতীয়টি চিটাগং করিডর, দক্ষিণ ত্রিপুরা থেকে মাত্র ২৮ কিলোমিটার দূরে। এই অংশটিই ঢাকা ও চট্টগ্রামের একমাত্র সংযোগপথ।”
To those who habitually threaten India on the “Chicken Neck Corridor”, should note these facts as well:
1️⃣ Bangladesh has two of its own “chicken necks”. Both are far more vulnerable
2️⃣ First is the 80 Km North Bangladesh Corridor- from Dakhin Dinajpur to South West Garo… pic.twitter.com/DzV3lUAOhR
— Himanta Biswa Sarma (@himantabiswa) May 25, 2025
হিমন্তের বক্তব্য, এই তথ্যগুলো শুধুই ভৌগোলিক বাস্তবতা, যেগুলি অনেকেই ভুলে যান কিংবা ভুলে থাকার ভান করেন। তবে তিনি সরাসরি কারও নাম না করলেও, মহম্মদ ইউনুসকেই যে নিশানা করেছেন, তা স্পষ্ট। কারণ কিছুদিন আগেই খবর ছড়িয়েছিল, বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলায় বেজিংয়ের সহায়তায় একটি বায়ুসেনা ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা করছে ঢাকা। এমনকি, ওই এলাকা পরিদর্শনে নাকি চিনা আধিকারিকরাও এসেছিলেন।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-বিরোধী অন্তর্বর্তী প্রশাসনের হাত ধরেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক দিকবদল দ্রুত ঘটছে। পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে ঢাকা, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটেই নিজের রাজ্য ও দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় তৎপরতা দেখাচ্ছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত, এবং স্পষ্ট করে বার্তা দিচ্ছেন— ভারতের দিকে তাকানোর আগে নিজেদের দুর্বল জায়গা গুনে নিক বাংলাদেশ।
