রাজনীতি
নাগরাকাটায় হামলা! ভেঙেছে চোখের নিচের হাড়, অস্ত্রোপচারের মুখে খগেন মুর্মু
ডিজিটাল ডেস্কঃ বন্যা (Flood) বিধ্বস্ত নাগরাকাটা (Nagrakata) পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হলেন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu) ও শিলিগুড়ির (Siliguri) বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। সোমবার রক্তাক্ত অবস্থায় খগেন মুর্মুকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি (Private) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, সাংসদের চোখের নিচের হাড় (Orbital bone) ভেঙেছে এবং অস্ত্রোপচার (Surgery) প্রয়োজন। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল, তাঁকে দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তবে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত (Raju Bista) জানিয়েছেন, আপাতত বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই, শিলিগুড়ির ওই বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচারই হতে পারে।
অন্যদিকে, আক্রান্ত শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও ওই একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল (Stable)।
ঘটনার পরপরই আটজনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার পর্যন্ত কারও গ্রেপ্তারের (Arrest) খবর নেই। বিজেপির দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলা পরিকল্পিত। বিরোধী দলনেতা ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের ছবি সামনে এনে শাসকদলকে নিশানা করেছেন। হামলার প্রতিবাদে বিজেপির পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের (Mass Movement) হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে ঘটনার নিন্দা করে বিজেপিকেই পাল্টা দায়ী করেছেন তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। ফেসবুকে (Facebook) তিনি লিখেছেন—
“খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষের উপর যা ঘটেছে, তা ঠিক হয়নি। যারাই করুক, আইন নিজের পথে চলবে। কিন্তু বিজেপিও মনে রাখুক, তাদের নেতাদের জন্য বহু মানুষ একশো দিনের কাজের (100 Days Work) টাকা, আবাস (Awas Yojana) সহ বহু প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই টাকা মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কোষাগার (State Treasury) থেকে দিয়েছেন।”
তিনি আরও লেখেন—
“বিজেপি বাংলা ভাষাকে অপমান করছে। বাংলাভাষীদের নিজেদের রাজ্যে (Own State) হেনস্থা করছে। তারপর কেউ যদি ফটো সেশন করতে বন্যা এলাকায় ঢোকেন, তাহলে সেটা প্ররোচনা হিসেবেই ধরা ভালো। তবে যেভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য (Unacceptable)। মুখ্যমন্ত্রীও বলেছেন, কেউ কোথাও যেতে চাইলে যাক, কিন্তু অপ্রীতিকর (Unpleasant) কিছু করবেন না। প্রশাসন, দল, পুলিশ মানুষের পাশে আছে।”
এই ঘটনার তদন্তে গতি আনার দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক মহল। হামলার নেপথ্যে কারা, কেন এই আক্রমণ—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা চরমে।
