সোশ্যাল মিডিয়া
ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার নেশা! স্বামীকে খুন করে দেহ গুম, ধৃত স্ত্রী ও প্রেমিক
ডিজিটাল ডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়ার নেশাই ডেকে আনল মৃত্যু। নিজের অনলাইন পরিচিতিকে বাস্তবের সম্পর্ক বানাতে গিয়ে স্বামীকে মেরে ফেলার ভয়ানক সিদ্ধান্ত! হরিয়ানার ভিওয়ানিতে সামনে এল এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের রোমহর্ষক কাণ্ড— স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে মৃতদেহ ফেলে আসা হল নর্দমায়। ঘটনায় জড়িত ইনফ্লুয়েন্সার ও তাঁর প্রেমিক, দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম রবিনা, যিনি পেশায় একজন সোশাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৩৪ হাজার, ইউটিউবেও রয়েছে বেশ কিছু ফলোয়ার। শর্ট ভিডিও তৈরি করতেই একাধিকবার দেখা হয় সুরেশ নামক আরেক সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে। সেই সূত্রেই গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। অথচ রবিনার ছিল একটি স্থায়ী পরিবার— স্বামী প্রবীণ এবং একটি ছয় বছরের সন্তান
আরও পড়ুনঃ আন্দোলনের নামে হিংসা নয়! পুলিশের হুঁশিয়ারি ভিডিও ঘুরছে নেট দুনিয়ায়
প্রবীণের পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী আগেই সংসার ও সন্তানের থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর অধিকাংশ সময় কেটে যেত ফোন ক্যামেরার সামনে। ভিডিও শুটের নাম করে প্রায়ই বেরিয়ে পড়তেন সুরেশের সঙ্গে। সন্দেহ দানা বাঁধে প্রবীণের মনে।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ২৫ মার্চ রাতে প্রবীণ হঠাৎই ঘরে ফিরে স্ত্রী ও সুরেশকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। শুরু হয় প্রবল অশান্তি। সেই সময়েই পরিকল্পনা মতো রবিনা ও সুরেশ মিলে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে প্রবীণকে হত্যা করে বলে অভিযোগ। পরে বাইকে চাপিয়ে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের একটি নর্দমায়।
পরদিন স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে। ধরা পড়ে যান রবিনা ও সুরেশ। জেরায় খুনের কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন দুজনে।
ঘটনার পরে গোটা এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। সোশাল মিডিয়ার মোহ কীভাবে বাস্তব জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনার মাধ্যমে ফের একবার প্রমাণ হল বলে মনে করছেন অনেকে।
