মালদা
যাতায়াতে ভরসা বাঁশের সাঁকো, ফলে ভোটের আগে পাকা সেতুর জোড়ালো দাবী গ্রামবাসীর
নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁচল, ১০ এপ্রিল : ভোট আসে ভোট যায়, কিন্তু যাতায়াতের ক্ষেত্রে দূর্ভোগের শেষ হয়নি মালদহের চাঁচলের মালতিপুর বিধানসভার চন্দ্রপাড়া অঞ্চলের হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দাদের। উল্লেখ্য, হোসেনপুর গ্রামটি ভৌগোলিকভাবে দুই নদী মহানন্দা ও সুইয়ের মধ্যেবর্তী স্থানে অবস্থান করছে।
কিন্তু নদী পারাপার করে শহরে যাতায়াতের জন্য এতদিনেও গড়ে ওঠেনি স্থায়ী সেতু। ফলে কেলাইগাছি-হোসেনপুর ঘাটে গ্রামবাসীরা নিজ উদ্যোগেই বাঁশের সাঁকো তৈরী করছে নদী পারাপারের জন্য। গ্রাম পঞ্চায়েত,স্কুল-কলেজ,ব্লক অফিস,হাট-বাজার,হাসপাতাল সহ জীবিকা নির্বাহের জন্য সর্বত্র যাতায়াতে নড়বড়ে বাঁশের এই সাঁকোই ভরসা গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ৫০০ পরিবারের।আইনল হোক নামে এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, গ্রামের রোগী বা প্রসূতি মায়েদের হাসপাতাল নিয়ে যেতে চরম কষ্ট হয়।খরার সময়ে বাঁশের খাটিয়ায় রোগীকে বসিয়ে চার কাঁধে নিয়ে সাঁকো দিয়ে নদী পার করাতে হয় রোগীকে।প্রায় চার পুরুষ বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার করেছেন।আগামীতেও স্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান তিনি। যদিও গরমে জল কম থাকায় সাঁকো পারাপার করতে পারলেও বর্ষায় নৌকাই ভরসা।ফলে বিভিন্ন সময়ে যাতায়াতে দূর্ভোগে পড়তে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। বহুবার স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাপ জোক করা হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেতুর স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় এবারের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে উদাসীন গ্রামবাসীরা। আরেক বাসিন্দা হারুন অল রসিদ জানান,এর আগে সেতু তৈরীর জন্য মাপযোগ করে নিয়ে গেছে।আর পাত্তা নেই।তবে ভোটের মরসুমে ফের পাকা সেতু নির্মানের জোড়ালো দাবি জানাচ্ছে হোসেনপুরবাসি।যদিও এই সেতু নির্মাণে গতবারের কংগ্রেস বিধায়ক আল বেরুণি জুলকার নাইন কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন চাঁচল-২ নং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল হাই।আগামীতে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এই সেতু নির্মাণে জোর দেওয়া হবে।যদিও কংগ্রেসের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের সংযুক্ত মোর্চার মনোনীত প্রার্থী আলবেরুনী জুলকারনাইন বলেন, হোসেনপুরের পাকা সেতু নির্মান নিয়ে বারবার রাজ্যসভায় প্রস্তাব পেশ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। এবার ফের নির্বাচিত হলে এই সেতু নির্মাণে আপ্রাণ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক আলবেরুনী জুলকারনাইন।
