দেশের খবর
“তোমরা মাটিতে নতুন শিকড় গেড়ে দিয়েছ”! বিক্রম-১-এর সাফল্যে পবনকে মোদীর অভিনন্দন
ডিজিটাল ডেস্কঃ অঙ্কে মাত্র ৫১ নম্বর পাওয়া এক ছাত্রই আজ ভারতের (India) বেসরকারি মহাকাশ (Space) শিল্পের অন্যতম মুখ। শনিবার দেশের মহাকাশ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace)। সংস্থার তৈরি বিক্রম-১ (Vikram-I) সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ বেসরকারি (Private) অরবিটাল (Orbital) রকেট হিসেবে ইতিহাস গড়েছে। এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন প্রাক্তন ইসরো (ISRO) বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা (Pawan Kumar Chandana)।
হায়দরাবাদের (Hyderabad) মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা পবনের ছোটবেলা থেকেই যন্ত্রপাতির (Machine) প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। তবে পড়াশোনায়, বিশেষ করে অঙ্কে (Mathematics), তিনি খুব ভালো ছিলেন না। এক পরীক্ষায় মাত্র ৫১ নম্বর পেলেও সেই ফলাফলকে নিজের ভবিষ্যতের বাধা হতে দেননি। কঠোর পরিশ্রমে প্রথম চেষ্টাতেই আইআইটি জেইই (IIT-JEE) উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন আইআইটি খড়্গপুরে (IIT Kharagpur)।
পড়াশোনা শেষে তিনি যোগ দেন ইসরো (ISRO)-তে। বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে (Vikram Sarabhai Space Centre) ছয় বছর কাজ করে ভারতের শক্তিশালী GSLV Mk III রকেট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে নিরাপদ সরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৮ সালে সহকর্মী নাগা ভরত ডাকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace)।
প্রথমদিকে বিনিয়োগ (Investment) পেতে কঠিন লড়াই করতে হলেও পরে ফ্লিপকার্টের (Flipkart) সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিন্নি বনসল এবং গ্রিনকো (Greenko)-র সহায়তায় এগিয়ে যায় সংস্থা। ২০২২ সালে বিক্রম-এস (Vikram-S) উৎক্ষেপণের পর এবার বিক্রম-১ (Vikram-I) সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে নতুন ইতিহাস গড়ল।
এই সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সংস্থার প্রতিষ্ঠাতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁরা শুধু মহাকাশেই নয়, আগামী প্রজন্মের স্বপ্নেও নতুন সম্ভাবনার বীজ বপন করেছেন। বর্তমানে সংস্থায় প্রায় এক হাজার কর্মী কাজ করছেন। পবনের কথায়, উদ্যোক্তা (Entrepreneur) হওয়াই এমন একটি পথ, যেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি দেশ গড়া এবং কর্মসংস্থান (Employment) তৈরির সুযোগও থাকে।
