খেলার খবর
ধ্বংসস্তূপের মাঝে ফুটবে আশার ফুল, গাজায় ফুটবল স্টেডিয়াম গড়তে বিপুল বিনিয়োগ ফিফার
ডিজিটাল ডেস্কঃ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী সংঘর্ষে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। পানীয় জল, বিদ্যুৎ গ্রিড (Electricity Grid) এবং নিকাশি ব্যবস্থার মতো মৌলিক পরিকাঠামো আজ বিপন্ন। এই মানবিক সংকটের মধ্যেই গাজার মানুষের মনে আশার আলো জ্বালাতে এগিয়ে এল ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA)। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace)-এর প্রথম বৈঠকে গাজার জন্য একগুচ্ছ ফুটবল প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, কেবল স্কুল বা হাসপাতাল নয়, মানুষের আবেগ ও আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন করতে ফুটবলকে হাতিয়ার করা হবে। ফিফার এই পরিকল্পনায় থাকছে ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি আধুনিক জাতীয় স্টেডিয়াম (National Stadium), যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়াও ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ফুটবল একাডেমি (Football Academy) এবং গাজার বিভিন্ন প্রান্তে ৫০টি মিনি পিচ (Mini Pitch) ও ৫টি পূর্ণাঙ্গ মাঠ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিন ফুটবল দল ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফার স্বীকৃতি পেলেও গাজার নিজস্ব কোনো লিগ কাঠামো ছিল না। ইনফান্তিনোর লক্ষ্য, সেখানে একটি শক্তিশালী ফুটবল ইকোসিস্টেম (Ecosystem) গড়ে তোলা, যেখানে যুব ও আঞ্চলিক পর্যায়ের লিগ পরিচালিত হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে ফিফা সভাপতিকে ‘ফুটবলের প্রধান’ হিসেবে সম্মান জানান। সম্প্রতি গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেই আয়োজিত একটি ‘ফাইভ-এ-সাইড’ ম্যাচ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, প্রতিকূলতার মাঝেও ফুটবল সেখানে টিকে থাকার ও ঐক্যের প্রতীক (Symbol of Unity)। ফিফার এই বিনিয়োগ গাজার সাধারণ মানুষের জন্য কেবল খেলা নয়, বরং মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন দেখাবে।
