ডায়াবেটিসে ভয় নয়, দরকার শৃঙ্খলা, আয়ুর্বেদিক পথেই মিলবে সমাধান
Connect with us

স্বাস্থ্য

ডায়াবেটিসে ভয় নয়, দরকার শৃঙ্খলা, আয়ুর্বেদিক পথেই মিলবে সমাধান

Dipa Chakraborty

Published

on

স্বাস্থ্য, ডাঃ সোমনাথ দত্ত, B.A.M.S. (WBUHS) – বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস এমন একটি রোগে পরিণত হয়েছে, যা শহর ও গ্রাম, উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, রাত জাগার অভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং অতিভোজন, এই সমস্ত কারণ মিলেই ডায়াবেটিসকে এক নীরব অথচ মারাত্মক রোগে পরিণত করেছে। সমস্যার বড় দিক হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গ স্পষ্ট না হওয়ায় অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।

আয়ুর্বেদ মতে ডায়াবেটিসকে বলা হয় “প্রমেহ”। এটি মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী বিপাকজনিত রোগ, যেখানে দেহের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ব্যাহত হয়। আয়ুর্বেদ কেবল ওষুধের উপর নির্ভর করে না; বরং খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, মানসিক ভারসাম্য এবং প্রকৃতিনির্ভর অভ্যাসের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়। সেই কারণেই ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় আয়ুর্বেদিক জীবনধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

 আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে ডায়াবেটিস

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, ডায়াবেটিসের মূল কারণ হলো কফ দোষের আধিক্য ও অগ্নির দুর্বলতা। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে দেহের বিপাক ক্ষমতা কমে যায় এবং পরবর্তীতে বাত দোষ যুক্ত হয়ে রোগ আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনিয়মিত আহার, অতিরিক্ত মিষ্টি ও তেলজাতীয় খাবার, অলস জীবনযাপন এবং মানসিক চাপ এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা হলে চোখ, কিডনি, স্নায়ু ও হৃদযন্ত্রের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই আয়ুর্বেদ মতে রোগের মূল কারণ দূর করাই প্রকৃত চিকিৎসা।

 সঠিক খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়ুর্বেদ মতে খাবার হওয়া উচিত হালকা, সহজপাচ্য এবং পরিমিত।

Advertisement
ads

যা খাওয়া উপকারী
▪️ পুরোনো চালের ভাত (অল্প পরিমাণে)
▪️ আটার রুটি
▪️ লাউ, ঝিঙে, করলা, পটল, উচ্ছে জাতীয় সবজি
▪️ ডাল ও সেদ্ধ খাবার
▪️ কম তেলে রান্না করা পদ

যা এড়িয়ে চলা দরকার
▪️ চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
▪️ ফাস্ট ফুড ও বেকারি সামগ্রী
▪️ সফট ড্রিঙ্কস
▪️ অতিরিক্ত ভাত, আলু ও ভাজা খাবার
▪️ অতিরিক্ত তেল ও লবণ

খাবারের সময় ও নিয়ম

অনিয়মিত সময়ে খাবার গ্রহণ ডায়াবেটিসকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
▪️ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া
▪️ রাতে দেরিতে খাবার না খাওয়া
▪️ অতিভোজন ও অতিউপবাস, দু’টিই পরিহার করা
এই নিয়মগুলি মানলে বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।

আয়ুর্বেদিক ভেষজের ভূমিকা

কিছু ভেষজ উপাদান ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
▪️ আমলকি
▪️ গুডুচি (গুলঞ্চ)
▪️ মেথি
▪️ করলা
▪️ হলুদ
তবে এগুলি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।

Advertisement
ads

 শরীরচর্চা ও যোগাভ্যাস

নিয়মিত ব্যায়াম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন
▪️ প্রণায়াম
▪️ কপালভাতি
▪️ ভুজঙ্গাসন
▪️ পশ্চিমোত্তানাসন
▪️ অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ ও ঘুম

মানসিক চাপ ডায়াবেটিসের অন্যতম বড় কারণ। ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্ক্রিন টাইম কমানো চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পাশাপাশি প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা

স্থূলতা ডায়াবেটিসকে আরও জটিল করে তোলে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। পাশাপাশি নিয়মিত ফাস্টিং সুগার, পোস্টপ্রান্ডিয়াল সুগার, HbA1c, কিডনি ও চোখের পরীক্ষা করানো উচিত।

ডায়াবেটিস কোনো একদিনের রোগ নয়, আবার একদিনে এর সমাধানও সম্ভব নয়। আয়ুর্বেদ বলছে—সচেতন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। ছোট ছোট পরিবর্তনই ভবিষ্যতে বড় সুফল এনে দিতে পারে। ভয় নয়, সচেতনতা ও নিয়মই হোক ডায়াবেটিস মোকাবিলার প্রধান অস্ত্র।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement