ভাইরাল খবর
টিকিট নেই, ভাড়া চড়া—দেওয়ালি ও ছটের ভ্রমণ মরশুমে বিপাকে পর্যটক
ডিজিটাল ডেস্কঃ দেওয়ালি (Diwali) আর ছট পুজো (Chhath Puja) যেন হয়ে উঠেছে সাধারণ যাত্রীর দুঃস্বপ্ন। দুর্গাপুজো (Durga Puja) ও কালীপুজোর (Kali Puja) মাঝে যাঁরা বেড়াতে বেরিয়েছিলেন, তাঁদের এখন ঘরে ফেরা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের অধিকাংশ দূরপাল্লার ট্রেন (Long-distance trains), বিশেষ করে হাওড়া (Howrah) ও শিয়ালদহ (Sealdah) স্টেশন থেকে ছাড়ে এমন ট্রেনগুলিতে সংরক্ষিত টিকিট (Reserved tickets) প্রায় অমিল। তৎকাল (Tatkal) টিকিটও মিলছে না, ভাড়াও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।
একই অবস্থা বিমান পরিষেবা (Flight services)-এর ক্ষেত্রেও। জনপ্রিয় রুটে ফ্লাইট ভাড়া বেড়েছে ৭০০% পর্যন্ত। দিল্লি, মুম্বই, জয়পুর, লখনউ, আমদাবাদ—সব রুটেই টিকিটের জন্য হাঁসফাঁস করছেন যাত্রীরা।
ঘরে ফেরা যেন যুদ্ধ
এ সময়ে শুধু অবাঙালি যাত্রীরাই নন, বহু বাঙালিও (Bengalis) লক্ষ্মীপুজো (Lakshmi Puja) সেরে বেড়াতে বেরিয়ে পড়েন। ভাইফোঁটার (Bhai Phonta) আগেই তাঁদের ঘরে ফেরা অভ্যাস। কিন্তু ট্রেন বা বিমানে জায়গা না থাকায়, গোটা পরিবারকে নিয়ে ফিরে আসা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এজেন্টরাও (Ticket agents) এই সুযোগে কমিশন চড়িয়ে দিয়েছেন। তবু মিলছে না টিকিট।
রেল দিচ্ছে স্পেশাল ট্রেন, তাতেও ভিড়
দক্ষিণ-মধ্য রেল (South Central Railway) উৎসব উপলক্ষে এই মাসে ৯০০টির বেশি বিশেষ ট্রেন (Special Trains) চালাচ্ছে। সেগুলিও সাঁতরাগাছি, হাওড়া-সহ প্রধান স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করবে। কিন্তু, সেই ট্রেনগুলির ভাড়া আকাশছোঁয়া।
উত্সবে কার পুলিংয়ের বাড়বাড়ন্ত
ট্রেন-বিমানের এমন অবস্থা দেখে অনলাইন কার পুলিং (Online Car Pooling)-এর চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ব্লাব্লাকার (BlaBlaCar), কুইকরাইড (QuickRide), এমনকি ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও চলছে সহযাত্রী খোঁজার হিড়িক। অনেকেই ভাড়া গাড়ি শেয়ার করে কিংবা টুকরো পথে যাত্রা করছেন। চতুষ্কোণ এক্সপ্রেসওয়ে (Quadrilateral Expressway)-তে চলছে একের পর এক প্রাইভেট গাড়ির কনভয়।
বাসেও ঠাঁই নেই
বেসরকারি এসি বাস (AC Bus), ভলভো (Volvo Bus)-তেও পরিস্থিতি এক। বহু মানুষ লোটাকম্বল নিয়ে দীর্ঘ সফরের জন্য প্রস্তুত। লখনউ-পাটনা, বারাণসী-গয়া-র মতো ব্যস্ত রুটে বাস ভাড়া পৌঁছেছে ₹৩৫০০–৪০০০ পর্যন্ত।
এই অবস্থায় শুধুই ভ্রমণ নয়, ঘরে ফেরা হয়ে উঠেছে এক প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। উৎসবের মরশুমে আনন্দের বদলে যাত্রীদের মুখে শুধু চাপা হতাশা আর রাগ।


