দেশের খবর
ভারতের ১৫তম উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন সি পি রাধাকৃষ্ণন
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের ১৫তম উপ-রাষ্ট্রপতি (Vice President) হিসেবে শুক্রবার শপথ নিলেন সি পি রাধাকৃষ্ণন (C. P. Radhakrishnan)। রাষ্ট্রপতি ভবনে (Rashtrapati Bhavan) আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) হাত থেকে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। ইংরেজিতে “ঈশ্বরের নামে” শপথ গ্রহণ করেন নবনিযুক্ত উপরাষ্ট্রপতি, লাল কুর্তা পরে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh), প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar), প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ (Ramnath Kovind), বেঙ্কাইয়া নাইডু (Venkaiah Naidu)-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) একাধিক সদস্য এবং বিভিন্ন বিরোধী দলের (Opposition Parties) নেতারা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২১ জুলাই আচমকা পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। তারপরই হয় উপনির্বাচন (By-Election)। ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এনডিএ-র (NDA) প্রার্থী হিসেবে ৪৫২টি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন রাধাকৃষ্ণন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বিচারপতি বি সুধর্শন রেড্ডি (B. Sudarshan Reddy), যিনি পেয়েছেন মাত্র ৩০০টি ভোট। বিরোধী শিবিরের (Opposition Bloc) খাতায়কলমে ছিল ৩২১টি ভোট, তবে ১৫টি ভোট বাতিল হওয়ায় এবং কিছু ক্রস ভোটিং (Cross-Voting) হওয়ার ফলে ভোটের পার্থক্য আরও বেড়ে যায়।
কে এই সি পি রাধাকৃষ্ণন?
চন্দ্রপুরম পন্নুস্বামী রাধাকৃষ্ণন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৭ সালের ৪ মে, তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) তিরুপ্পুরে (Tiruppur)। মাত্র ১৬ বছর বয়সে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এরপর জনতা পার্টি হয়ে বিজেপিতে (BJP) আসেন এবং দলের আদর্শের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকেন।
১৯৯৮ সালে কোয়েম্বাটুর (Coimbatore) লোকসভা (Lok Sabha) কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন রাধাকৃষ্ণন। এরপর ১৯৯৯ সালে পুনরায় জয়লাভ করেন। ১৯৯৮ সালের কোয়েম্বাটুর বিস্ফোরণের (Bomb Blast) পর বিজেপির জনপ্রিয়তার উত্থানও তাঁর জয়ে বড় ভূমিকা রাখে। প্রথমবার ১.৫ লক্ষ ভোট এবং দ্বিতীয়বার প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান তিনি।
২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত বিজেপির তামিলনাড়ু রাজ্য সভাপতি (State President) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই সময় ৯৩ দিনের একটি বিশেষ যাত্রায় (Yatra) অংশ নেন, যেখানে নদী সংযুক্তি (River Linking), অস্পৃশ্যতা বিরোধিতা (Anti-Untouchability Movement) এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে (Anti-Terrorism) প্রচারে নামেন।
২০০৪ সালে ডিএমকে (DMK) যখন বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তখন এনডিএ-র জোট রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত করতেও মুখ্য ভূমিকা পালন করেন রাধাকৃষ্ণন।
শপথে উপস্থিতির তাৎপর্য
এই শপথ অনুষ্ঠানে সদ্য প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি ধনকড়ের উপস্থিতি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পদত্যাগের পর প্রথমবার জনসমক্ষে এলেন তিনি, এবং শপথমঞ্চে ছিলেন একেবারে সামনের সারিতে। যদিও রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো ছিল, ধনকড় হয়তো বিজেপির উপর অসন্তুষ্ট ছিলেন বলেই নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন।
এছাড়াও, বিরোধী শিবিরের নেতাদের অনুষ্ঠানস্থলে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁদের কাউকেই প্রথম সারিতে বসার জায়গা দেওয়া হয়নি। উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge), ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien)-এর মতো নেতারা।
