ডিজিটাল ডেস্কঃ শিবরাত্রির (Shivratri) মতো ধর্মীয় উপবাস দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেসে আমিষ খাবার পরিবেশন এবং তা ঘিরে সংঘর্ষে জড়ানোয় বহিষ্কৃত হলেন সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির (South Asian University) এক বাংলাদেশি পিএইচডি ছাত্র। অভিযুক্ত ছাত্র সুদীপ্ত দাস (Sudipto Das) দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে ‘উস্কানিমূলক ও বিশৃঙ্খল আচরণে’ জড়িয়ে ছিলেন বলে দাবি করছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রির দিন হোস্টেল মেসে মাংস পরিবেশন নিয়ে ছাত্রদের একাংশ ক্ষুব্ধ হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ছড়িয়ে পড়ে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি। তদন্তে উঠে আসে, এই উত্তেজনায় মূল ভূমিকা ছিল পিএইচডি ছাত্র সুদীপ্ত দাসের, যিনি আগেও ২০২২ সালে ‘disruptive activities’-এর অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ বাচ্চাকে কোলে কিয়ারা-সিদ্ধার্থ, পাশে সলমন! ছবি দেখে আবেগে ভাসছে ভক্তরা
প্রোক্টোরিয়াল কমিটি জানিয়েছে, এই ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ইচ্ছাকৃত প্ররোচনার প্রমাণ মিলেছে। কর্তৃপক্ষের কড়া ভাষায়, “Repeated misconduct and inciting unrest”—এই অভিযোগেই তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কোনও কোর্সে আবেদন করতে পারবেন না। তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হোস্টেল খালি করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে SFI এবং ABVP একে অপরকে দোষারোপ করছে। SFI-র দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত। অন্যদিকে ABVP জানায়, শিবরাত্রির মতো দিনে এই আচরণ ইচ্ছাকৃত ‘religious provocation’।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—এ কি মতাদর্শের নামে অশান্তির ছক, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে কঠোর পদক্ষেপের সঠিক উদাহরণ? শিক্ষাঙ্গনে ধর্ম ও রাজনীতির দ্বন্দ্ব ফের একবার সামনে এলো এই ঘটনার মাধ্যমে।