বিশ্বের খবর
আমেরিকার আঘাতের পর ইরানের তীব্র প্রত্যাঘাত, ইজরায়েলে মৃত্যু ও ধ্বংস
ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। রবিবার সকালে ভয়াবহ হামলা চালাল তেহরান (Tehran)। ইজরায়েলের (Israel) হাইফা (Haifa) ও তেল আভিভ (Tel Aviv)-এ লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল ইরান। ইজরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মাত্র দু’দফার হামলায় প্রায় ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরে। ইতিমধ্যেই ১১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (Israel Defense Forces – IDF) জানিয়েছে, রবিবার সকালের এই হামলার জেরে গোটা ইজরায়েলে ফের সাইরেন বেজে ওঠে। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও চরমে উঠেছে। এর আগে রবিবার সকালেই মার্কিন সেনা (US Army) ইরানের (Iran) তিনটি পরমাণু ঘাঁটি, ফোর্ডো (Fordow), নাটান্জ (Natanz) এবং ইসফাহান (Isfahan)-এ সমন্বিত বিমান হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সেই হামলার কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা ইরানের পারমাণবিক শক্তির মূল কেন্দ্রগুলিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছি। এবার ইরানকে শান্তি স্থাপন করতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়বে তারা।’
আরও পড়ুনঃ দমকলের দেরি, লাগাতার বিস্ফোরণ, আতঙ্কে বারাসত – ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক গোডাউন ও বসতি
তেহরান অবশ্য দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় বড় ক্ষতি হয়নি। তবে এই হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই রবিবার সকালে ইজরায়েলের বুকে পাল্টা জবাব দিল ইরান। ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহু বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে ইরান-ইজরায়েল সরাসরি সংঘর্ষ। দিনের পর দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তেল আভিভ-সহ একাধিক জায়গায় আগেও হামলা চালিয়েছিল ইরান। তবে রবিবারের হামলা আরও পরিকল্পিত এবং ভয়ঙ্কর।
আন্তর্জাতিক মহল এখন উদ্বিগ্ন। রবিবারের এই আক্রমণের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ আরও তীব্র হল। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য একাধিক রাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও তাতে কোনও লাভ হচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ইরানের পাল্টা জবাবে আপাতত যুদ্ধের মেঘ আরও ঘন হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
